TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম বদলের বিরুদ্ধে লেবার এমপির সতর্কবার্তা

যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) পাওয়ার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে নতুন একটি আর্লি ডে মোশন (প্রাথমিক প্রস্তাব) উত্থাপন করেছেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য নিল ডানকান। তার দাবি, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে বহু বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কর্মরত অভিবাসীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং অনেকেই নিজেদের ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠিত জীবন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

নিজের ফেসবুক পোস্টে নিল ডানকান বলেন, যেসব মানুষ বছরের পর বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করেছেন, কাজ করেছেন, পরিবার গড়েছেন এবং সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন, তারা এখন গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাদের অনেকের আশঙ্কা, নতুন নীতির কারণে হয়তো তাদের দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় ওয়েস্টমিনিস্টারে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন। তার ভাষায়, অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান দেখিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা কিংবা দেশের বিদ্যমান সমস্যার জন্য অভিবাসীদের দোষারোপ করা কোনো সমাধান নয়; বরং এতে সমাজের সামগ্রিক ক্ষতি হয়।

নিল ডানকান সতর্ক করে বলেন, এই নীতি বাস্তবায়িত হলে অতীতের বহুল আলোচিত উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির মতো আরেকটি বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, বৈধভাবে বসবাসরত মানুষদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিলে সরকারের প্রতি জনআস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, কেয়ার হোমে কর্মী সংকট, স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসক ও দক্ষ কর্মীর ঘাটতি যখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা যুক্তরাজ্যের নিজেরই ক্ষতির কারণ হবে।

ডানকানের ভাষায়, বিষয়টি শুধু অভিবাসন নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি যুক্তরাজ্যের মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার যদি প্রথমে মানুষকে বলে—‘নিয়ম মেনে চললে আপনি থাকতে পারবেন’, কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করে, তাহলে সেটি সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করবে।

তিনি জানান, কিং চার্লসের ভাষণের পর সংসদের সব আর্লি ডে মোশন বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি আগের প্রস্তাবের পরিবর্তে নতুন করে একই ধরনের একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। তার দাবি, আগের প্রস্তাবটি ৫৭ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন পেয়েছিল।

নতুন প্রস্তাবটির প্রতিও সমর্থন জানাতে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা এই অবস্থানের সঙ্গে একমত, তারা যেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রস্তাবটির পক্ষে সমর্থন দেওয়ার অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য সরকার স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। এ অবস্থায় প্রস্তাবিত পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সংসদ, রাজনৈতিক দল, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

পূর্ব লন্ডনের রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ঐতিহাসিক উত্থানঃ নির্বাচিত ৮০ কাউন্সিলর

নিউজ ডেস্ক

চলতি বছর ১০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে

যুক্তরাজ্যের বাজারে খুব দ্রুতই আসতে যাচ্ছে ল্যাবে তৈরি মাংস