হোম অফিসে আশ্রয় ও অভিবাসন সংক্রান্ত আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা রিফর্ম ইউকের কাউন্সিলর পল বিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিভিল সার্ভিস কোড ভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ডারহামের ক্রুক ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর পল বিন হোম অফিসে কর্মরত থাকার বিষয়টি তার রেজিস্টার অব ইন্টারেস্টসে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সিভিল সার্ভিস কোড অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকা আবশ্যক। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সামাজিক মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য করেছেন।
‘হোপ নট হেট’ নামে একটি সংস্থার তদন্তে তার নামে খোলা সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূলক পোস্ট পাওয়া যায়। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন— “৯৩% আশ্রয়প্রার্থী পুরুষ, বয়স ১৮-৩৫ এর মধ্যে, এবং ৯২% আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। সত্য হলো, অধিকাংশ আশ্রয়প্রার্থী আসলে অর্থনৈতিক অভিবাসী।”
তবে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় অর্ধেক আশ্রয়প্রার্থী শেষ পর্যন্ত মামলা জিতে শরণার্থী মর্যাদা পান। একাধিক পোস্টে বিন আরও দাবি করেন, “৯৭% আশ্রয়প্রার্থী মিথ্যা বলে এবং মাত্র ৩% সত্যি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়।”
সেই অ্যাকাউন্টে নারীবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহার ছাড়াও রিফর্ম ইউকের সমালোচনা করা হয়। এমনকি নাইজেল ফারাজকে নিয়েও কটূক্তি করা হয়েছে। এসব প্রকাশের পর বিনকে দল থেকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ডারহাম কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কাউন্সিলরের পদে বহাল থাকবেন। কাউন্সিলের বিরোধী দলের নেতা আমান্ডা হপগুড বিষয়টি স্বচ্ছতার স্বার্থে তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পল বিন চলতি বছরের মে মাসে নির্বাচিত হওয়া ৬৫ জন রিফর্ম ইউক কাউন্সিলরের একজন। এ সংখ্যার ফলে ডারহাম কাউন্সিলে রিফর্ম ইউক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
হোম অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিভিল সার্ভিস কোড ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে
৩০ আগস্ট ২০২৫