7 C
London
October 24, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে হোম অফিসের ব্যর্থতায় ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীরা বিপদেঃ হাইকোর্টের রায়

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বহু বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে হাইকোর্টে রায় দিয়েছে বিচারপতি মিসেস জাস্টিস জেফোর্ড। তিনি বলেন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বন্দী অভিবাসীদের অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ থেকে রক্ষার জন্য যে ব্যবস্থা থাকা উচিত, তা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে কাজ করছে না। এই রায়ের প্রভাব হাজারো বন্দী ব্যক্তির ওপর পড়তে পারে।

 

মামলাটি করেছেন মিসর ও বাংলাদেশের দুই নাগরিক, যাদের ২০২৩ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত ব্রুক হাউস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক রাখা হয়েছিল। ২০১৭ সালে বিবিসি প্যানোরামায় গোপন চিত্রধারণে সেখানে রক্ষীদের হাতে ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীদের নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ হয়। পরবর্তী ব্রুক হাউস জনস্বার্থ তদন্তে অভিবাসী বন্দীদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুতর উদ্বেগ উঠে আসে।

বিচারক রুল ৩৫–এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই নিয়মে চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় ঝুঁকি যেমন আত্মহানি বা মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে হোম অফিসকে প্রতিবেদন দিতে হয়, যাতে আটক রাখার উপযুক্ততা জরুরি ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করা যায়। তবে মামলাকারী দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং আত্মহানির আশঙ্কা থাকলেও কাউকে আটক অব্যাহত রাখার উপযুক্ততা মূল্যায়ন করা হয়নি।

বিচারপতি জেফোর্ড উল্লেখ করেন, বহু বছর ধরে সিস্টেমের ব্যর্থতা স্পষ্ট ছিল এবং অন্তত ২০১৭ সাল থেকে কর্তৃপক্ষের জানা ছিল এসব সমস্যা। তিনি ACDT প্রক্রিয়ায় থাকা বন্দীদের সংখ্যা এবং রুল ৩৫–এর আওতায় তৈরি হওয়া প্রতিবেদনের কম সংখ্যার মধ্যে সংযোগহীনতা লক্ষ্য করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আত্মহানির ঝুঁকি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কম হওয়ার যথাযথ ব্যাখ্যা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী লুইস কেট বলেন, এই রায় শুধু তাদের নিজস্ব আচরণের অবৈধতা প্রমাণ করে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতাকেও প্রকাশ করছে। এতে গুরুতর মানসিক সমস্যা বা আত্মহানির ঝুঁকিতে থাকা অসংখ্য অভিবাসী বন্দী প্রকৃত বিপদের মুখে পড়েছেন।

আটক অভিবাসীদের জন্য কাজ করা দাতব্য সংস্থা মেডিক্যাল জাস্টিসও প্রতিবেদনের কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। এমা গিন বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এমন অনেক অভিবাসীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রুল ৩৫ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়নি, যার মধ্যে আত্মহানির চেষ্টা করা একজনও ছিলেন।

হোম অফিসের মুখপাত্র জানিয়ে দিয়েছেন, তারা মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আটক ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং গতকালের ব্রুক হাউস তদন্তে দেওয়া সুপারিশের ২৫টি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন ও বন্ধ করা হয়েছে। তারা অব্যাহতভাবে এই উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

এনএইচএস ট্রাস্টে মৃত্যু ও চিকিৎসা অবহেলার কারণে ক্ষতিপূরণ মামলার সংখ্যা বাড়ছে

৫১৭ মিলিয়ন ক্ষতির মুখে আরো দোকান বন্ধ করবে জন লুইস

যুক্তরাজ্যে মানবদেহে নিপাহ ভাইরাসের টিকা পরীক্ষা শুরু