25.6 C
London
July 31, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ৩৫টি মরদেহ ও শত শত পরিবারের সঙ্গে প্রতারণাঃ কঠোর সাজা ঘোষণা

যুক্তরাজ্যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সেবা খাতে নজিরবিহীন এক কেলেঙ্কারির ঘটনায় একটি বেসরকারি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ দীর্ঘদিন অযত্নে ফেলে রাখা, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাহ সম্পন্ন না করা, শোকাহত পরিবারের হাতে ভুল ব্যক্তির ছাই তুলে দেওয়া, ভুয়া অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিকল্পনা বিক্রি এবং দাতব্য অনুদানের অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পুলিশের অভিযানে প্রতিষ্ঠানের ভবন থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে পচনধরা ৩৫টি মরদেহ এবং প্রায় আধা টন মানবদেহের ছাই উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, ভবনের ভেতরে মরদেহ ও ছাই অত্যন্ত অগোছালো ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একটি শিশুর মরদেহও ছিল।

তদন্তে আরও উঠে আসে, বহু পরিবারকে জানানো হয়েছিল যে তাদের স্বজনের দাহ সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবে সেই মরদেহগুলো প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই পড়ে ছিল। অনেক পরিবারের হাতে তাদের স্বজনের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির ছাই তুলে দেওয়া হয়। কেউ কেউ সেই ছাই দিয়ে স্মারক অলংকার তৈরি করেছেন বা পারিবারিক কবরস্থানে সংরক্ষণ করেছেন। পরে জানতে পারেন, সেটি তাদের প্রিয়জনের ছাই ছিল না।

আদালত আরও জানতে পারে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২২৬ জনের কাছে ভুয়া অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিকল্পনা বিক্রি করে পাঁচ লাখ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন। এছাড়া মৃত ব্যক্তিদের স্মরণে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া অনুদানের অর্থও আত্মসাৎ করেন।

মোট ৬৭টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে আইনসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ সৎকারে বাধা সৃষ্টি, একাধিক প্রতারণা এবং ভুল ছাই পরিবারের কাছে হস্তান্তর।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের আর্থিক লাভের জন্য মৃত ব্যক্তিদের মর্যাদা ও শোকাহত পরিবারের বিশ্বাসকে নির্মমভাবে ভঙ্গ করেছেন। তিনি এমন প্রতারণা, অসততা ও অমানবিক আচরণ করেছেন, যা বহু মানুষের জীবনে গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করেছে। বিচারক আরও বলেন, এটি অর্থসংকটের কারণে হয়নি; বরং ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যেই এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

রায়ের পর একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, এই সাজাও তাদের কাছে যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, যেভাবে অসংখ্য মানুষের অনুভূতি, বিশ্বাস এবং মর্যাদার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, তার জন্য আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এটি বাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ও জটিল তদন্ত। প্রতিটি প্রমাণের পেছনে ছিল এমন পরিবার, যারা বিশ্বাস করে তাদের প্রিয়জনের শেষ বিদায়ের দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসের ভয়াবহ অপব্যবহার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির ভাষায়, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া খাতে জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গের সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি এটি। সবচেয়ে কঠিন সময়ে থাকা পরিবারগুলোর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া খাতের ওপর আরও কঠোর আইন ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালুর দাবি জোরালো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও এ বিষয়ে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, কোনো পরিবার যেন ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হয়, সে জন্য কার্যকর ও কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সূত্রঃ আইটিভি ডট কম

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে আউটডোর স্পোর্টস ফেরত আসবে ২৯ মার্চ

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের মৃত্যুর দায়ে এক ব্যক্তির ৯ বছরের কারাদণ্ড

লন্ডনে আবাসন সংকট তীব্রতর, পাঁচ বরোতে বন্ধ সাশ্রয়ী ঘর নির্মাণ