12.7 C
London
October 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ILR নীতির পরিবর্তন নিয়ে মন্ত্রিসভায় মতবিরোধঃ অনিশ্চয়তায় অভিবাসীরা

যুক্তরাজ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের অনুমতি (ILR) পাওয়ার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে সরকারের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার প্রস্তাবসহ কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনা চললেও সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। এতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর করার প্রস্তাব সামনে আসার পর থেকে যুক্তরাজ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে পাঁচ বছরের যোগ্যতাসম্পন্ন অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ এই অনুমতি পাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদের দপ্তর স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে জনপরামর্শের আনুষ্ঠানিক জবাব এখনো প্রকাশ করেনি। গত ফেব্রুয়ারিতে ওই পরামর্শ গ্রহণের সময়সীমা শেষ হয়। সিদ্ধান্তে বিলম্বের কারণে অভিবাসী পরিবার, নিয়োগকর্তা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ তার পেকহাম এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে সতর্ক করে বলেছেন, স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার মতো কঠোর প্রস্তাব সামাজিক সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অভিবাসীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে ডাউনিং স্ট্রিটের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো পরে দাবি করেছে, স্থানীয় এক সভায় দেওয়া তার বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ঘটনাটি অভিবাসন নীতি নিয়ে সরকারের ভেতরে কঠোর অবস্থানপন্থী ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থকদের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে এনেছে।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, অ্যাঞ্জেলা রেনারসহ লেবার পার্টির বামপন্থী অংশের বিরোধিতার কারণে শাবানা মাহমুদ প্রস্তাব বাস্তবায়নে পিছিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফও সরকারের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনকারীর সংখ্যা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কর্মরত অভিবাসীদের জন্য এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যারা বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসে কাজ করছেন এবং বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন, তারা নতুন নিয়ম কার্যকর হলে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারেন।

বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের অনুমতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। এই সম্ভাব্য সংখ্যা অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার দাবিকে রাজনৈতিকভাবে জোরালো করেছে।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জনপরামর্শে পাওয়া মতামতগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে নতুন নিয়ম কবে ঘোষণা করা হবে বা কবে থেকে কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

স্থায়ী বসবাসের নিয়মে পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্তের এই বিলম্ব যুক্তরাজ্যের কর্মী পরিকল্পনা ও জনসেবা ব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার মতো খাতে অভিবাসী কর্মীদের ধরে রাখা, নিয়োগকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কর্মীদের পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ড্যাজলিং ডন

এমকে

আরো পড়ুন

তাপ-জলবায়ুর কবলে পড়তে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থাঃ বছরে হারাবে ১২ দিনের পাঠ

পদত্যাগ করলেন বৃটিশ পরিবহণ মন্ত্রী লুইস হাই

প্রীতি প্যাটেলের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন মাইকেল গভ

অনলাইন ডেস্ক