যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের জন্য বিস্তারিত প্রশিক্ষণ পরিচালনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসা আবেদনকারীদের আরও ব্যাপক ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করার জন্য প্রস্তুত করা। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে যেসব আবেদনকারীর ইতোমধ্যে দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার নির্ধারিত ছিল, তাদের অনেকের সাক্ষাৎকার বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারিত হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের জানানো হবে। তবে নিয়মিত সাক্ষাৎকার কার্যক্রম কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মূলত অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া স্থগিত বা পুনর্নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
নতুন এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাই চালু করছে। এর আগে প্রশাসন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন—এমন বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিসা বাতিলের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য দেওয়া বি-১ ও বি-২ ভিসা নিয়ে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তারা এই কঠোরতার আওতায় আসতে পারেন।
সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা বা ‘পাবলিক চার্জ’ বিষয়টিও নতুন নীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এরই মধ্যে কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা যাচাই এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ ব্যবহারের ব্যবস্থা চালু করেছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার আগের একটি নীতিকে বাতিল করে দিয়েছে। আদালত বলেছে, শুধু জাতীয়তার ভিত্তিতে এ ধরনের সামগ্রিক স্থগিতাদেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা পররাষ্ট্র সচিবের ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য এর আগে থেকেই কঠোরতা বাড়ানো হয়েছিল। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকসহ বহু দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে আলাদা স্থগিতাদেশও কার্যকর করা হয়েছিল।
ফলে নতুন বৈশ্বিক সাক্ষাৎকার স্থগিতাদেশের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা পরিবার, কর্মী ও অন্যান্য অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। যাদের সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে নির্ধারিত ছিল, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কাছ থেকে নতুন তারিখের নির্দেশনার অপেক্ষা করা এবং আবেদনটি বাতিল হয়েছে—এমনটি ধরে না নেওয়া।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপকে শুধু প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে না; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে নতুন নিয়ম কতদিন চলবে এবং স্বাভাবিক ভিসা সাক্ষাৎকার কার্যক্রম কবে ফিরবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্রঃ মিরর
এম.কে

