14.3 C
London
May 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকাপ্রবাসে বাংলাদেশশীর্ষ খবর

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের কেমব্রিজে ২০ বছর বয়সী সাঈদ ফয়সাল নামে এক বাংলাদেশি তরুণকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কেমব্রিজের সিটি হলে বিক্ষোভ করেছে শত শত মানুষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বোস্টন গ্লোব এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ বলেছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার দিকে বড় একটি ছুরি নিয়ে তেড়ে এসেছিলেন ওই তরুণ। তাঁকে অস্ত্র ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা করেননি।

বোস্টন গ্লোবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ড নামের একটি সংগঠন। এর সাধারণ সম্পাদক তানভীর মুরাদ একটি ব্যানার হাতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর ব্যানারে লেখা ছিল ‘সাঈদ ফয়সাল হত্যার ন্যায় বিচার চাই’। তিনি বলেছেন, মুরাদ অত্যন্ত ভদ্র ছেলে ছিল। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার চাই এবং সুষ্টু তদন্ত চাই।’

সাঈদ ফয়সাল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী তাঁর চাচা সেলিম জাহাঙ্গীর বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ফয়সাল এখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজও করতেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা এলাকায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রেই ফয়সালের জন্ম হয়েছে।

তানভীর মুরাদ আরও বলেছেন, ‘ফয়সাল আমেরিকায় স্বপ্ন পূরণ করতে এসেছিল। তাঁর স্বপ্ন মরে গেছে।’ বিক্ষোভে ফয়সালের বাবাও অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন।

গত বুধবার বিকেলের দিকে ফয়সাল হত্যার শিকার হন। ওই রাতেই মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চেস্টনাট স্ট্রিটে ফয়সাল ছুরি হাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে এসেছিলেন। পুলিশ তাঁকে অস্ত্র ফেলে দিতে বলেছিল। তিনি ছুরি ফেলে দেননি। তখন পুলিশ তাঁকে স্পঞ্জ রাউন্ড গুলি করেছিলেন। তাতেও তিনি নিরস্ত্র না হলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা গুলি করেন।

পরে ফয়সালকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, তিনি মারা গেছেন।

Support Arif Sayed Faisal’s Family

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান বলেন, বিভাগীয় নীতি মেনে এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তবে কোন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে গুলি করেছিলেন তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

এদিকে কেমব্রিজ পুলিশ কমিশনার ক্রিস্টিন এলো ফয়সালের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ বিভাগ এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতা করছে। যে কোনো সময় আমাদের মাঝে থেকে জীবন হারিয়ে যায়। এটি দুঃখজনক। আমরা সবাই শোকাহত।’

 

 

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালাতে ইউক্রেনকে ক্যামেরনের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যে আবারও দুই নার্স কাঠগড়ায়

Property Mortgage with BENECO, 24 February