14.4 C
London
October 8, 2026
TV3 BANGLA
মুক্তমতযুক্তরাজ্য (UK)

রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণে বিশ্ব সংকটে: আইনের শাসন ক্রমেই পশ্চাদপসরণ

নাশীত রহমান || লন্ডন || ০৭ অক্টোবর ২০২৬

 

রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ আজ বিশ্বের বহু রাষ্ট্রে একটি গভীর সংকটের নাম। দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ—ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—এই সংকটের দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে। ১৯৪৭ সালের বিভাজন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পুনর্গঠিত হয়েছে। ফলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ না হলে গণতান্ত্রিক অগ্রগতি কঠিন হবে—এই সতর্কবার্তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য প্রযোজ্য।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগঠনের সূচনা করলেও নতুন রাষ্ট্রগুলো উপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামোকে অপরিবর্তিত রেখেছিল। পাকিস্তানে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্রুত সামরিক‑আমলাতান্ত্রিক জোটের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্য, ভাষা ও সংস্কৃতিগত দমন, এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব রাষ্ট্রযন্ত্রকে আরও পক্ষপাতদুষ্ট করে তোলে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র ছিল মূলত পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজাতদের হাতে কেন্দ্রীভূত। এই রাজনৈতিকীকরণই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশও উপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামো উত্তরাধিকারসূত্রে পায়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন হয়ে পড়ে। দলীয়করণ, আমলাতন্ত্রের পক্ষপাত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাজনৈতিক ব্যবহার এবং বিচারব্যবস্থার ওপর প্রভাব—এসবই রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশে পরিণত করেছে।

 

পাকিস্তানে ১৯৪৭ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ কখনোই থামেনি। সামরিক শাসন, হাইব্রিড গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেশটিকে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সংকটে রেখেছে। নির্বাচনী রাজনীতি প্রায়ই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ইঙ্গিত বা অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দুর্বল থাকে এবং রাষ্ট্রযন্ত্র রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সক্রিয় অংশীদার হয়ে ওঠে।

ভারতে ১৯৪৭ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ ভিন্ন রূপে বিকশিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রশাসন তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের মতাদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, তদন্ত সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক ব্যবহার, আমলাতন্ত্রের ওপর দলীয় প্রভাব এবং বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ—এসবই রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশে পরিণত করেছে। ভারতের গণতন্ত্র এখনও শক্তিশালী হলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ তার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যকে দুর্বল করছে।

ভারতে গত এক দশকে রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ এমন এক গভীর পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে। স্বাধীনতার পর ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্র তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ছিল—একটি পেশাদার আমলাতন্ত্র, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বতন্ত্র বিচারব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সীমিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই কাঠামোতে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশে পরিণত করেছে—এমন অভিযোগ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

 

 

ভারতের নির্বাচন কমিশন, যা একসময় বিশ্বের অন্যতম স্বাধীন নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে বলে সমালোচকদের দাবি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত, বিরোধী দলের অভিযোগ অগ্রাহ্য করা, এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব—এসবই প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তদন্ত সংস্থাগুলো—যেমন ইডি, সিবিআই ও এনআইএ—বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা ও তদন্ত পরিচালনা করছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে। একই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তদন্তের গতি তুলনামূলকভাবে শ্লথ থাকে। ফলে রাষ্ট্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো কার্যত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

আমলাতন্ত্রের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রশাসনিক পদে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক আনুগত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। অনেক অভিজ্ঞ আমলা নীতিগত সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক চাপের কথা প্রকাশ করেছেন। ফলে প্রশাসন আর রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে না; বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।

বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের কিছু রায় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব, গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে বিলম্ব, এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীল মামলায় আদালতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিচারব্যবস্থা এখন আর সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন নয়; বরং রাজনৈতিক পরিবেশের চাপ অনুভব করছে।

 

সংবাদমাধ্যমের ওপরও রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে। অনেক বড় মিডিয়া হাউস মালিকানা পরিবর্তন, বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা সংকুচিত হয়েছে, আর বিরোধী মত প্রকাশের ক্ষেত্র সীমিত হয়েছে। ফলে জনমত গঠনের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ স্পষ্ট।

এই প্রেক্ষাপটে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন যে ভারতের রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আর সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে না; বরং ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ফলে ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে যে পরিচিতি ছিল, তা এখন বিতর্কের মুখে। সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ এতটাই গভীর হয়েছে যে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ। রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ এখন শুধু দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যা নয়; বরং বিশ্বের বহু দেশে এটি গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ দেশটি দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। আজ সেই পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—তিন দেশেই রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ এখন একটি স্থায়ী বাস্তবতা। এই রাজনৈতিকীকরণ নির্মূল করার কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া নেই। বরং দিন দিন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এটি একটি ভয়াবহ চক্র—যেখানে ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, আর রাষ্ট্রযন্ত্র ক্ষমতাসীন দলের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। ফলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়।

 

 

রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ আজ শুধু দক্ষিণ এশিয়ার সংকট নয়; বরং এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের বহু দেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক মেরুকরণের চাপে পড়েছে। বিচারব্যবস্থা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন এবং নির্বাচনী কাঠামো—সবকিছুই রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মতাদর্শগত লড়াইয়ের অংশে পরিণত করেছে। ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, এবং আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচনী কাঠামোও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়, ফেডারেল তদন্ত সংস্থার কার্যক্রম, এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা—সবকিছুই রাজনৈতিক বিভাজনের দ্বারা প্রভাবিত। সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আর সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ নয়; বরং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য ডানপন্থী দেশেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অভিবাসন, জাতীয়তাবাদ, নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে। ফলে প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে রাশিয়া, চীন এবং অন্যান্য কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার অধীন। সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্রের ধারক নয়; বরং ক্ষমতার ধারক‑বাহক। প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা, বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যম—সবই রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইচ্ছার অনুসারী। আইনের শাসন সেখানে কার্যত ক্ষমতার শাসনে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ এতটাই গভীর যে কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান কার্যত অস্তিত্বহীন। ফলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না; রাষ্ট্রই হয়ে ওঠে রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র বাহন।

 

 

বিশ্ব এখন রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ ও আইনের শাসনের মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্বে আটকে আছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো আইনের শাসনকে শক্তিশালী করতে চাইলেও রাজনৈতিক মেরুকরণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলছে। আর কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলোতে রাজনৈতিকীকরণ এতটাই গভীর যে আইনের শাসন কার্যত ক্ষমতার ইচ্ছার অনুসারী। ফলে দুই ধরনের রাষ্ট্রই একই সংকটে আক্রান্ত—রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ আইনের শাসনকে দুর্বল করছে।

বর্তমান বিশ্বে রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ আইনের শাসনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী। রাজনৈতিক ক্ষমতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করছে, আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করছে। এই দ্বন্দ্ব গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আইনের শাসন কার্যত প্রতীকী হয়ে যায়। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দুর্বল হয়, এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হয়।

রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ না হলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়া থেকে পশ্চিমা বিশ্ব পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু না হলে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দুর্বলই থাকবে। ইতিহাস দেখায় যে রাষ্ট্রযন্ত্র যখন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশে পরিণত হয়, তখন গণতন্ত্রের পথ সংকুচিত হয়। আর যখন রাষ্ট্রযন্ত্র নিরপেক্ষ থাকে, তখনই গণতন্ত্র বিকশিত হয়। আজকের বিশ্বে এই ভারসাম্য পুনর্গঠনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরো পড়ুন

ডিসেম্বরের আগেই রাস্তায় থাকা সবার জন্য আশ্রয়ঃ ৪৪২ মিলিয়ন পাউন্ডের মহাপরিকল্পনা বার্নহামের

ফোর্বসের তালিকায় এশিয়ায় শীর্ষ ১০০ স্টার্টআপে বাংলাদেশের পাঠাও ও সম্ভব

অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতে নতুন পদক্ষেপঃ নিরাপদ পথে শরণার্থীদের গ্রহণ করবে যুক্তরাজ্য