TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘রিপ-অফ ডিগ্রি’ বিতর্কঃ ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০০ কোর্স নিয়ে তোলপাড়

২০২২ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৮০০টি তথাকথিত ‘মিকি মাউস’ কোর্স চালু হয়েছে, যেগুলোকে কম কঠোর একাডেমিক মানসম্পন্ন এবং সীমিত কর্মসংস্থান সম্ভাবনাসম্পন্ন বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব কোর্সে ইতোমধ্যে ২৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।

 

থিঙ্ক ট্যাংক ট্যাক্সপেয়ার্স’ অ্যালায়েন্স (TPA) জানিয়েছে, দেশজুড়ে ৭৮৭টি কোর্স তাদের তালিকায় এসেছে। এর মধ্যে ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’, ‘রেস, এডুকেশন অ্যান্ড ডিকোলোনিয়াল থট’, ‘জেন্ডার, সেক্সুয়ালিটি অ্যান্ড কালচার’–এর মতো কোর্সগুলোকে সবচেয়ে বেশি “ওক” বা অতিরিক্ত আদর্শভিত্তিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

TPA–এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি এবং নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটিতে সবচেয়ে বেশি ‘রিপ-অফ’ বা অর্থের তুলনায় কম ফলদায়ক কোর্স চালু রয়েছে। তালিকার শীর্ষ ১০–এ মর্যাদাপূর্ণ রাসেল গ্রুপের দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে, যা উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

‘মিকি মাউস’ কোর্স শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন নিউ লেবার সরকারের সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়মন্ত্রী ব্যারোনেস হজ। তার মতে, এসব কোর্সে পাঠ্যবিষয় তুলনামূলকভাবে কম কঠোর এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চাকরির ক্ষেত্রে তেমন সহায়ক নয়। TPA নিজেদের মানদণ্ড অনুযায়ী কোর্সগুলো বাছাই করেছে, যেখানে শখভিত্তিক ও সরাসরি চাকরিমুখী নয়—এমন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তালিকাভুক্ত কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটির পাঁচ সপ্তাহের ‘নেট জিরো বুটক্যাম্প’, গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটির ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’-এ মাস্টার্স এবং লিডস বেকেট ইউনিভার্সিটির ‘রেস, এডুকেশন অ্যান্ড ডিকোলোনিয়াল থট’। এছাড়া ই-স্পোর্টস, ‘আউটডোর অ্যান্ড এক্সপেরিয়েনশিয়াল লার্নিং’ ও ‘বুশক্রাফট’-এর মতো শখভিত্তিক কোর্সও তালিকায় রয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ঋষি সুনাকের নেতৃত্বাধীন আগের কনজারভেটিভ সরকার ‘রিপ-অফ ডিগ্রি’ বন্ধে পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিল। পরে লেবার সরকারও নিম্নমানের কোর্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানায়।

লেবার সরকার শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নতুন ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যাতে মানহীন কোর্সে ভর্তি সীমিত করা যায়।

একই সময়ে সরকার টিউশন ফি বাড়িয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে £৯,৫৩৫ নির্ধারণ করেছে। তবে শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্ধেক তরুণকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর পুরোনো লক্ষ্য বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষাঋণের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত করদাতাদের অর্থেই বহন করতে হয়—এ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে TPA।

TPA–এর তদন্ত ও প্রচারণা ব্যবস্থাপক ক্যালাম ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, করদাতাদের অর্থ এমন ডিগ্রিতে ব্যয় করা হচ্ছে, যেগুলোতে বিনিয়োগের বাস্তব কোনো সুফল নেই। তার ভাষায়, এসব কোর্স মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়ানোর মাধ্যম, অথচ শিক্ষার্থী ও জনগণ ঋণের বোঝা বহন করছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নটিংহাম, ম্যানচেস্টার, কামব্রিয়া ও গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, তাদের কোর্সগুলো গবেষণাভিত্তিক, শ্রমবাজারের চাহিদাসম্পন্ন এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতেই নকশা করা।

TPA জানিয়েছে, তাদের বিশ্লেষণ ২০২২–২৩ থেকে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত কোর্সসংক্রান্ত তথ্য অধিকার (FOI) আবেদনের জবাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। কিছু কোর্স ইতোমধ্যে বন্ধ বা নাম পরিবর্তিত হলেও, সামগ্রিক চিত্রটি যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় মান ও অর্থমূল্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর কোনটি সঠিক পথ – আপিল নাকি নতুন আবেদন?

ভুয়া অভিবাসন পরামর্শদাতাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে কঠোর ব্যবস্থা

দুই-সন্তান ভাতা সীমা তুলে নিলে দারিদ্র্য কমবে—বাজেটের আগে যুক্তরাজ্যে মায়েদের জোর দাবি