লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা অক্সফোর্ড স্ট্রিটে শুরু হয়েছে যানবাহনমুক্ত সড়ক তৈরির কার্যক্রম। সোমবার থেকে সেন্ট্রাল লন্ডনের এই সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশে সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এই উদ্যোগকে রাজধানীর জন্য ‘একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মাই লন্ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্সফোর্ড স্ট্রিটের অর্চার্ড স্ট্রিট থেকে গ্রেট পোর্টল্যান্ড স্ট্রিট পর্যন্ত অংশে এই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। ওই এলাকায় বাস, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত ভাড়ার গাড়ি, ব্যক্তিগত মোটরযান, সাইকেল, স্কুটার ও পেডিক্যাব চলাচল করতে পারবে না। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পণ্য সরবরাহের সুযোগ থাকবে। জরুরি সেবার যানবাহন যেকোনো সময় প্রবেশ করতে পারবে।
প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অক্সফোর্ড স্ট্রিটে যাতায়াত করেন। বিশ্বের ব্যস্ততম কেনাকাটার এলাকাগুলোর অন্যতম এই সড়ক থেকে বছরে প্রায় ৩১০ কোটি পাউন্ডের কেনাকাটার লেনদেন হয়। বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুম সামনে রেখে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে।
মেয়র সাদিক খান বলেন, অক্সফোর্ড স্ট্রিট বহু শতাব্দী ধরে সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলেছে এবং ব্রিটিশ সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। কয়েক দশক ধরে এই সড়ককে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করার আলোচনা চলছিল। সরকারের সহযোগিতায় অবশেষে নতুন যুগের সূচনা করা সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার মতে, এই উদ্যোগ অক্সফোর্ড স্ট্রিটকে নতুন প্রাণবন্ত গন্তব্যে পরিণত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং লন্ডনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে সেখানে খেলাধুলা, ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের উপনেতা টিম বার্নসের অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার আশঙ্কা, অক্সফোর্ড স্ট্রিট থেকে যানবাহন সরিয়ে নেওয়ায় আশপাশের ছোট সড়কগুলোতে যানজট বাড়তে পারে। এতে বায়ুদূষণ, সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জননিরাপত্তা এবং স্থানীয় ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
লন্ডনের পরিবহন কমিশনার অ্যান্ডি লর্ড জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের ফলে কেনাকাটা ও অবসরযাপনের জন্য আরও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি সবার জন্য কার্যকর হচ্ছে কি না এবং লন্ডনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আবাসন, সম্প্রদায় ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও এই উদ্যোগকে অক্সফোর্ড স্ট্রিটের জন্য নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পরিবর্তনটি আরও সবুজ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করবে এবং দর্শনার্থী, বিনিয়োগ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করবে।
জন লুইস, সেলফ্রিজেস, আন্ডার আর্মারসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সংগঠন এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাদের আশা, এই উদ্যোগ অক্সফোর্ড স্ট্রিটকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেনাকাটার গন্তব্যগুলোর সঙ্গে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে বড়দিনের কেনাকাটায় বিঘ্ন কমাতে আগামী কয়েক সপ্তাহ নির্মাণকাজ সীমিত রাখা হবে। ২০২৭ সালের বসন্তের শেষ নাগাদ অক্সফোর্ড স্ট্রিটে ৫০টির বেশি নতুন গাছ, দুটি নতুন উন্মুক্ত চত্বর, উন্নত দিকনির্দেশনা, ১০০টির বেশি নতুন আসন, খাবারের টেবিল এবং নতুন আলোর ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে অক্সফোর্ড স্ট্রিটকে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার, প্যারিসের শঁজেলিজে এবং বার্সেলোনার লা রামবলার মতো আন্তর্জাতিক আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

