লন্ডনের উইম্বলডনে তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বাধীন তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে কর্মরত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও অধস্তন কর্মকর্তা এবং একজন সাবেক কর্মকর্তা এই তদন্তের আওতায় রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীদের কাছে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেছেন।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে একটি স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠান চলাকালে একটি দ্রুতগতির গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ৮ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর চালকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, চালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, যা আগে শনাক্ত করা যায়নি। তবে নিহতদের পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। এমনকি ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্কুলের প্রধান শিক্ষককেও সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি, যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, তারা বারবার বিভিন্ন প্রশ্ন তুললেও সেসবের সন্তোষজনক উত্তর পাননি। বিশেষ করে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ রয়েছে।
তিন বছর পার হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে। তারা বলছেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবর্তে তারা বারবার অবহেলার শিকার হচ্ছেন।
নিহত এক শিশুর মা বলেন, তিনি এখনো বুঝতে পারছেন না কেন এত বড় একটি ঘটনার যথাযথ ও দক্ষ তদন্ত করা হয়নি। তিনি জানতে চান, কেন তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে এবং কেন এত দেরি হচ্ছে সিদ্ধান্ত নিতে।
পরিবারের আরেক সদস্য বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তারা স্বচ্ছতা পাচ্ছেন না। তাদের ভাষায়, “যে ব্যবস্থা ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা, সেখানে আমরা উপেক্ষিত হয়ে আছি।”
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নতুন করে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে এবং সবদিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিলম্বের কারণে ভুক্তভোগীদের কষ্ট বাড়ছে—এ বিষয়টিও তারা স্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনার তদন্ত নয়, বরং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। পরিবারের দাবি, সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির মাধ্যমেই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

