TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের মেয়র ব্যবস্থা না নিলে লন্ডনজুড়ে বাস ধর্মঘটের হুমকি

বাসচালকদের জন্য নিরাপদ ও সহনীয় কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পুরো লন্ডনজুড়ে বাস ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন ইউনাইট। উত্তর ও পূর্ব লন্ডনের প্রায় ১,৫০০ বাসচালকের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি সামনে এসেছে।

বাসচালকদের সঙ্গে বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অ্যারিভা নর্থ লন্ডনের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ পুরোনো বাসগুলোতে কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকা। ইউনিয়নের অভিযোগ, তীব্র গরমের সময় কিছু বাসের চালকের কেবিনের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।

ইউনাইটের আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাদিন এডওয়ার্ডস জানিয়েছেন, বাসগুলোতে এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নের বিষয়ে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের (টিএফএল) সঙ্গে গ্রীষ্মজুড়ে আলোচনা হয়েছে। টিএফএল ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানালেও ঠিক কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ইউনিয়নের।

ইউনিয়নের আশঙ্কা, শীতের আবহাওয়া শুরু হলে গরমের এই সমস্যা সাময়িকভাবে আড়ালে চলে যাবে। পরে আগামী গ্রীষ্মে আবার একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যেই পুরোনো বাসগুলোর চালকের কেবিনে কার্যকর এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের অভিযোগ শুধু তীব্র গরমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার টয়লেট সুবিধার অভাব, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং একটি শিফট শেষ হওয়ার মাত্র ১০ ঘণ্টা পর পরবর্তী শিফটে কাজে যোগ দেওয়ার মতো কর্মসূচি নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। এসব বিষয়কে চালকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের জন্য গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখছে ইউনিয়ন।

চলতি গ্রীষ্মে চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় টিএফএল, ইউনাইট এবং লন্ডনের বাস অপারেটরদের নিয়ে একটি এক্সট্রিম ওয়েদার টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তবে ইউনিয়নের অভিযোগ, লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান এখনো ওই আলোচনায় সরাসরি অংশ নেননি।

 

ইউনাইটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাদিক খান চালকদের সুরক্ষা নিয়ে শক্ত অবস্থানের কথা বললেও এখন শুধু বক্তব্য যথেষ্ট নয়। বাসচালকেরা বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য মেয়রের নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো থাকার পর এখন কেন পুরো লন্ডনজুড়ে ধর্মঘটের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও কিছু বাসচালকের মধ্যে ইউনিয়নের সমালোচনা রয়েছে। লন্ডন বাস ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ডিলান ক্যারলের দাবি, স্বাধীনভাবে আন্দোলন করা ব্যক্তিরাও এসব সমস্যা নিয়ে টিএফএলের ওপর চাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসচালকদের টয়লেট সুবিধার সমস্যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রয়েছে। কয়েক বছর আগে ইউনাইট এ বিষয়ে প্রচারণা চালালেও স্থায়ী পরিবর্তন হয়নি।

ইউনাইট অবশ্য তাদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে বলেছে, বাসচালকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগে অ্যাবেলিওর বাসচালকেরা ১৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিলেন।

 

ইউনিয়ন একই সঙ্গে বাস অপারেটরদের পাশাপাশি টিএফএল ও মেয়রকেও জবাবদিহির মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বাস পরিচালনার চুক্তি যারা দিচ্ছেন, কর্মপরিবেশের ন্যূনতম মান নির্ধারণেও তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।

অন্যদিকে সাদিক খান জানিয়েছেন, চরম গরমের সময় বাসচালকদের সুরক্ষায় টিএফএল, বাস অপারেটর এবং ইউনাইটের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। এক্সট্রিম ওয়েদার টাস্কফোর্স পুরোনো বাসে চালকের কেবিনে নতুন এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরমকে সহনীয় করার অন্যান্য সমাধানও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অ্যারিভার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, চালকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। কোম্পানিটি অতিরিক্ত গরম মোকাবিলায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং বাসের চালকের কেবিনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করতে বিনিয়োগের বিষয়েও জানিয়েছে।

বর্তমানে উত্তর লন্ডনে অ্যারিভার প্রায় ১,৫০০ বাসচালকের ধর্মঘট চলমান রয়েছে। এই কর্মসূচি অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। ইউনিয়নের দাবি পূরণে অগ্রগতি না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে পুরো লন্ডনের বাস নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের পরিধি বাড়লে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গন্তব্যে বাসের ওপর নির্ভরশীল লাখো যাত্রীর ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

বাসচালকদের দাবি, সব বাস রুটে পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত টয়লেট ও বিশ্রামের সুবিধা, নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ করার ক্ষেত্রে সুরক্ষা, গ্রীষ্মে কার্যকর এয়ার কন্ডিশনিং ও শীতে যথাযথ গরমের ব্যবস্থা, নিরাপদ কর্মসূচি এবং কর্মদিবসে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময় নিশ্চিত করতে হবে।

ইউনাইটের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে উত্তর ও পূর্ব লন্ডনের বর্তমান আন্দোলন আরও বড় আকার নিতে পারে। এর ফলে লন্ডনের পুরো বাস পরিষেবাই বড় ধরনের ধর্মঘটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ হাসিনা মামলায় অনড় থাকার বার্তা বাংলাদেশের নতুন সরকারের

নিউজ ডেস্ক

সারাহ ইভারার্ড হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, নিন্দার মুখে লন্ডন পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

ইংল্যান্ডে মাঝপথে নার্সিং কোর্স ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে শিক্ষার্থীরা