২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও বর্তমান মেয়র সাদিক খান এখনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তাকে সরাতে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে পৃথকভাবে মাঠে নামলেও ডানপন্থী ভোট দুই দলের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ায় সাদিক খানের অবস্থান আরও সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।
তিনবারের মেয়র সাদিক খান এখনো চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচন করবেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড় শুরু হয়ে যাওয়ায় লন্ডনের মেয়র নির্বাচন ইতোমধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হচ্ছে।
কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মাইল এন্ড ইনস্টিটিউটের জন্য সাভান্তা ইউকের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে লেবারের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ৩৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। বিপরীতে কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকে উভয়েই পেয়েছে ১৮ শতাংশ করে। গ্রিন পার্টি পেয়েছে ১৭ শতাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ৯ শতাংশ সমর্থন।
এই জরিপে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে লেবারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে। যেখানে লেবারের সম্ভাব্য প্রার্থী ৩৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, সেখানে কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকে কেউই এককভাবে ২০ শতাংশের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।
সাদিক খানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কনজারভেটিভদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি এবং ওয়েস্টমিনস্টার কাউন্সিলর ফেস্টাস আকিনবুসোয়ে। ক্লেভারলি ইতোমধ্যে কনজারভেটিভ মেয়র প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ঘোষণা করেছেন এবং দাবি করেছেন, বামঘেঁষা শহর লন্ডনেও তিনি সাদিক খানকে পরাজিত করতে পারবেন।
অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের প্রার্থী লায়লা কানিংহামও সাদিক খানকে সরানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কনজারভেটিভদের সঙ্গে সমঝোতা করে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। ফলে সাদিক খানবিরোধী ভোট একক প্রার্থীর পেছনে যাওয়ার বদলে একাধিক দলের মধ্যে ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কানিংহাম দাবি করেছেন, রিফর্ম ইউকে লন্ডনের এমন কিছু এলাকায়ও সাফল্য পেয়েছে যেখানে কনজারভেটিভদের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। তিনি বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম এলাকায় স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের নয়টি আসনে জয় পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
লেবার শিবিরেও সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ডন বাটলারের নাম সামনে এসেছে। লেবারের এই এমপি জানিয়েছেন, সাদিক খান চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অর্থাৎ সাদিক খান নির্বাচন না করলে লেবারের ভেতরেই নেতৃত্বের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
তবে গ্রিন পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের তুলনামূলক কম জনসমর্থন এবং কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকের মধ্যে ডানপন্থী ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করছে।
এদিকে সাদিক খান এখনো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও লন্ডনের মেয়র পদে তাকে হারানোর জন্য ডানপন্থী দলগুলোর তৎপরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু বর্তমান জনমত জরিপের চিত্র বলছে, প্রতিদ্বন্দ্বীরা মাঠে নামলেও সাদিক খান এখনো লড়াইয়ের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
২০২৮ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়া, নির্বাচনী জোট, ভোটের কৌশল এবং লন্ডনবাসীর অগ্রাধিকার—সবকিছুই ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে আপাতত জনমত জরিপে লেবারের এগিয়ে থাকা এবং বিরোধী ডানপন্থী ভোটের বিভাজন সাদিক খানকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান দিচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

