17.7 C
London
October 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘শুধু শ্বেতাঙ্গরাই প্রকৃত ইংরেজ’—ব্রিটেনে জাতিগত পরিচয় নিয়ে রাজনীতিবিদদের বিতর্ক

ব্রিটেনে বসবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দেশটির বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধের সুবিধার প্রশংসা করেছেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা এক ফিলিপিনো নারী। তার দাবি, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ তিনি বিনামূল্যে পাচ্ছেন।

 

গণ-অভিবাসন নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের জন্য পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার রাস্তায় ওই নারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এলাকাটিকে ‘মুসলিম এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সেখানে বড় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

ব্রিটেনে বসবাসের বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ওই নারী বলেন, ‘এটি সবচেয়ে ভালো, কারণ আমার হৃদরোগ আছে, ডায়াবেটিস আছে এবং সবকিছুই বিনামূল্যে।’

তিনি আরও দাবি করেন, তার নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরাসরি তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাত্র একটি ক্লিকের মাধ্যমেই তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের পরীক্ষা পাস করেছেন বলেও দাবি করেন।

এদিকে, ব্রিটেনে ইংরেজ পরিচয় এবং অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ওই ভিডিও সামনে এসেছে। দেশটির কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে দলের নেতাদের মধ্যে ইংরেজ পরিচয়ের সংজ্ঞা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে।

সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্য সুয়েলা ব্রেভারম্যান মন্তব্য করেন, কেবল শ্বেতাঙ্গরাই ইংরেজ হতে পারেন। তার এ বক্তব্যের পর রিফর্ম ইউকের অর্থবিষয়ক মুখপাত্র রবার্ট জেনরিক দাবি করেন, ব্রিটেনে বসবাসকারী ‘লক্ষ লক্ষ’ মানুষ সাংস্কৃতিক বা জাতিগত দিক থেকে ইংরেজ নন।

এর জবাবে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেছেন, ডানপন্থী রাজনীতিকেরা দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তার মিশ্র জাতিগত পরিচয়ের সন্তানদের ইংরেজ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, এমন বিতর্কেরও সমালোচনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ নির্বাচিত হলে পাঁচ বছরের জন্য আশ্রয়ব্যবস্থা স্থগিত করা এবং আশ্রয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা ৯০ হাজার আবেদনকারীকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে, ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বহিষ্কার ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে মানবাধিকার-সংক্রান্ত দাবি উত্থাপনের সুযোগ সীমিত করতে নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো আগামী এক মাসের মধ্যে পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি কমিটিতে আলোচনার জন্য তোলা হবে।

ব্রিটেনে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ফিলিপিনো নারীর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এমকে

আরো পড়ুন

ওয়েলসে লেকের পানিতে অজু করতে গিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু

ইংল্যান্ডে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট, ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও মাস্ক ব্যবহারের কঠোর নীতি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক

দেশ রক্ষায় অস্ত্র হাতে নিতে রাজি মাত্র ৬% ব্রিটিশঃ জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র