শীতের আগমনী বার্তা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটেনের বাড়িঘরে মাকড়সার আনাগোনা বাড়তে পারে—এমন সতর্কতার মধ্যে দেশটির পরিবারগুলোকে আগামী চার সপ্তাহ সন্ধ্যা ৭টার পর জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের পর তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় সন্ধ্যার পর ঘরের ভেতরে উষ্ণ পরিবেশের খোঁজে মাকড়সা ঢোকার প্রবণতা বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিটেনে সাধারণত গ্রীষ্মের শেষভাগ ও শরতের শুরুতে ঘরের মাকড়সা বেশি চোখে পড়ে। বিশেষ করে পুরুষ ঘরের মাকড়সা সঙ্গী খুঁজতে সক্রিয় হয়ে ওঠায় এ সময় তাদের চলাচল বাড়ে। ফলে আগস্টের শেষভাগ থেকে শরৎকাল পর্যন্ত বাড়ির ভেতরে মাকড়সা দেখা যাওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ধ্যার সময় জানালা খোলা থাকলে মাকড়সার ঘরে প্রবেশের সুযোগ বাড়ে। তাই সন্ধ্যা ৭টার পর জানালা বন্ধ রাখা সবচেয়ে সহজ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি কোনো সরকারি নির্দেশনা নয়; বরং বাড়িতে মাকড়সার প্রবেশ কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।
বাড়ির জানালা, দরজা, দেয়াল, বায়ু চলাচলের পথ এবং অন্যান্য স্থানে থাকা ছোট ফাঁকফোকরও মাকড়সার প্রবেশের পথ হতে পারে। এসব জায়গা পরীক্ষা করে সিল্যান্ট বা আবহাওয়া-প্রতিরোধী উপকরণ দিয়ে বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানালায় পোকামাকড় প্রতিরোধী জাল ব্যবহার করাও কার্যকর হতে পারে।
শুধু জানালা বন্ধ রাখাই নয়, বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া, ধুলা পরিষ্কার করা এবং ভ্যাকুয়াম ব্যবহারের মাধ্যমে মাকড়সার জাল, ডিমের থলি ও তাদের সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল কমিয়ে আনা যায়। বাড়িতে পড়ে থাকা খাবার ও আবর্জনা সরিয়ে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিভিন্ন ছোট পোকামাকড় মাকড়সার খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে।
প্রতিবেদনে পিপারমিন্ট, টি ট্রি ও ল্যাভেন্ডারের মতো কিছু সুগন্ধি তেল পানিতে মিশিয়ে সম্ভাব্য প্রবেশপথের আশপাশে ব্যবহার করার কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব প্রাকৃতিক উপায় মাকড়সা প্রতিরোধে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত—তাই এগুলোকে নিশ্চিত সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ব্রিটিশ বাড়িতে দেখা যাওয়া ফলস উইডো মাকড়সা নিয়েও সতর্কতা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মাকড়সা সাধারণত আক্রমণাত্মক নয় এবং বিরক্ত বা উসকানি না দিলে কামড়ানোর সম্ভাবনা কম। তবে কামড়ের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে ব্যথা ও ফোলাভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কোনো মাকড়সা ঘরে দেখা গেলে সরাসরি হাতে না ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরীহ মাকড়সা হলে গ্লাস বা অন্য কোনো পাত্র দিয়ে ঢেকে নিচে কাগজ ঢুকিয়ে নিরাপদে বাইরে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে মাকড়সাকে না মেরেই ঘর থেকে সরানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরতের মাকড়সার মৌসুম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। যুক্তরাজ্যে অধিকাংশ ঘরের মাকড়সা মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং তারা ঘরের অন্যান্য পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্যেও ভূমিকা রাখে। তাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অপ্রয়োজনীয়ভাবে মাকড়সা নিধন না করে বাড়িতে তাদের প্রবেশের সুযোগ কমানো।
ব্রিটিশ পরিবারগুলোর জন্য তাই আগামী কয়েক সপ্তাহের সহজ সতর্কতা হলো—সন্ধ্যার পর জানালা বন্ধ রাখা, জানালা-দরজার ফাঁকফোকর বন্ধ করা, বাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং মাকড়সা দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ উপায়ে সরিয়ে দেওয়া। শরৎ যত এগিয়ে আসবে, এ ধরনের সতর্কতা বাড়ির ভেতরে মাকড়সার আনাগোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে

