TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১২ঃ যুদ্ধে যোগ দিতে পারেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন নাগরিকসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য টেলিগ্রাফের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

রিয়াদের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক, চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিন, জর্ডান, সুদান, সিরিয়া ও মিসরের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হামলার জন্য হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটটির মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি ঘটনাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুথিরা বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে।

শনিবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের হুথিবিরোধী হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা যোগ দিতে পারি। বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করব।” হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প হামলাটিকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলার কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি এমন অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সৌদি আরবের জনগণের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলায় গভীরভাবে মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

এর আগেও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবারের এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন এবং একটি যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস হয়। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর কারণে বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫৮০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরও বিমানবন্দরটি নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ব্রিটিশ নাগরিকদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছে।

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট লোহিত সাগরসংলগ্ন এলাকায় বিমান হামলা জোরদার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্য পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহায়তা পাচ্ছে। নতুন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতি, আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা হুমকির মুখেঃ সৌদি যুবরাজ

প্রাণী অধিকার কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী, ২০ বছর পর যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

হজের নতুন নিয়ম কার্যকর, ভাঙলে কঠোর শাস্তি