যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। বিরোধী দল রিফর্ম ইউকের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য লি অ্যান্ডারসন দাবি করেছেন, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চেয়েও খারাপ প্রধানমন্ত্রী প্রমাণিত হবেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যে দ্রুত একটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার জনগণের হাতেই থাকা উচিত।
একটি সাক্ষাৎকারে লি অ্যান্ডারসন বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে শুরুতে কিছুটা জনসমর্থন তৈরি হলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কথিত ‘বার্নহ্যাম বাউন্স’-এর ধারণা উড়িয়ে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “দেশে শুধু নতুন একটি সার্কাস এসেছে, কিন্তু অভিনয় করছে সেই একই ভাঁড়রা।” তার দাবি, নেতৃত্বে ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও সরকারের নীতি ও কার্যক্রমে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসবে না।
অ্যান্ডারসন বলেন, গত এক দশকে যুক্তরাজ্য সাতজন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে। কিন্তু বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরও দেশ যে অর্থনীতি, অভিবাসন, জনসেবা ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি রয়েছে, সেগুলোর সমাধান হয়নি। তার মতে, শুধু নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী আসলেই দেশের সংকট দূর হবে না।
রিফর্ম ইউকের এই নেতা আরও প্রশ্ন তোলেন, লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তন আদৌ কোনো বাস্তব সংস্কারের সূচনা কিনা, নাকি একই নীতিকে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার ভাষায়, সরকারের মুখ বদলালেও নীতির পরিবর্তনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সাক্ষাৎকারে অভিবাসন ইস্যুকেও সামনে আনেন লি অ্যান্ডারসন। তিনি অভিযোগ করেন, শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনা লেবার দলের কিছু ব্যাকবেঞ্চ সংসদ সদস্য দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তার দাবি, সরকার জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, অথচ ভোটাররা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
তিনি বলেন, রিফর্ম ইউকের অবস্থান স্পষ্ট—বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের নতুন করে মতামত নেওয়া উচিত। সে কারণেই দলটি দ্রুত একটি সাধারণ নির্বাচন চায়, যাতে ভোটাররাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন দেশের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে এবং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ কোন পথে এগোবে।
লি অ্যান্ডারসনের এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নেতৃত্বে লেবার সরকার কীভাবে অর্থনীতি, অভিবাসন, জনসেবা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু মোকাবিলা করবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

