21.2 C
London
September 1, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

স্টারমারের বাড়ি অগ্নিসংযোগে রাশিয়া জড়িতঃ বিবিসির অনুসন্ধান

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বাড়ি ও গাড়িতে ২০২৫ সালে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নেপথ্যে রাশিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। রাশিয়ার নাশকতা ও অনলাইনে উস্কানিমূলক প্রচারের অংশ হিসেবে সেখানে আগুন দেওয়া হয়েছিল। অনুসন্ধানের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

২০২৫ সালের মে মাসে উত্তর লন্ডনের কেনটিশ টাউনে স্টারমারের একটি বাড়ি, একটি ফ্ল্যাট এবং তার ব্যবহৃত একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

বিবিসির অনুসন্ধান অনুযায়ী, রুশভাষী এক ব্যক্তি ইউক্রেনীয় ভাড়াটে ব্যক্তিদের হামলার নির্দেশনা ও অর্থ জুগিয়েছিলেন। টেলিগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন রুশভাষী ইভজেনি লুকশিন, আদ্যক্ষর ‘ইএল’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ বছর বয়সী লুকশিন একজন রুশ কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ এক রুশ সরকারি কর্মকর্তার সন্তান। তিনি ‘ইএল মানি’ ছদ্মনামে অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে অপরাধীদের দিয়ে ওই কাজ করান।

অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত দুইজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তারা হলেন ২২ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় নাগরিক রোমান ল্যাভ্রিনোভিচ এবং ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া ২৭ বছর বয়সী রোমানীয় নাগরিক স্তানিস্লাভ কারপিউচ।

আদালতে কৌঁসুলিরা জানান, ল্যাভ্রিনোভিচ টেলিগ্রামের মাধ্যমে ‘ইএল মানি’র কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার আশায় এই নাশকতায় অংশ নিয়েছিলেন। বিবিসির হাতে আসা একটি বার্তায় দেখা যায়, ‘ইএল’ তাকে লিখেছিলেন, ‘দেখুন, আপনি ব্রিটেনের খুবই উচ্চ পদমর্যাদার একজন মানুষের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। আমি আপনাকে অর্থ পাঠাব। আপনার নগরী ছেড়ে যাওয়া প্রয়োজন।’

লুকশিন টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপ এবং সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে দূর থেকে অপরাধীদের নির্দেশনা দিতেন। ল্যাভ্রিনোভিচকে তিনি রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়ার লোভও দেখিয়েছিলেন।

বিবিসির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাশিয়াভিত্তিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে কট্টর ডানপন্থি ও মুসলিমদের নামে ভুয়া গ্রুপ তৈরি করা হতো। এসব গ্রুপের মাধ্যমে বিভাজন উস্কে দেওয়া এবং ভয় ছড়ানোর পাশাপাশি ভাঙচুর চালানো হতো।

রাশিয়ার এইসব অ্যাকাউন্টে অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্য নিয়ে কিয়ার স্টারমারকে লক্ষ্যবস্তু করে মিথ্যা বক্তব্য পোস্ট করা হতো। আর তা ছড়িয়ে দিতেন কট্টর ডানপন্থি ও ইসলাম-বিদ্বেষী কর্মী টমি রবিনসনের মতো মানুষেরা।

যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার দূতাবাস বিবিসির এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি রাশিয়া এবং এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত করার চেষ্টা। আরও বলেছে, রাশিয়া যুক্তরাজ্য বা দেশটির জনগণের জন্য কোনো হুমকি নয়, এমনকী যুক্তরাজ্যের প্রতি কোনো আগ্রাসী অভিপ্রায়ও নেই।

বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ইভজেনি লুকশিন কোনো জবাব দেননি। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার যে প্রচার চ্যানেলকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল, সেটি গায়েব হয়ে গেছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

কেয়ার ভিসা কমাতে যাচ্ছে ব্রিটেন, আসতে পারে নতুন শর্ত

ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের খুচরা বাজার

হোম অফিসের আপত্তি প্রত্যাখানঃ আলবেনিয়ান মাদক ব্যবসায়ীকে দেশে ফেরানো যাবে না