TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

৫০ হাজার বাংলাদেশির ডিপোর্টেশন আপাতত স্থগিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায়

মালদ্বীপে থাকা প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর সম্ভাব্য বহিষ্কার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আপাতত কেটে গেছে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর মালদ্বীপ সরকার সম্ভাব্য ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় এই সংকটের সূত্রপাত। দেশটির অভিবাসন ও শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় একটি দেশ থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মালদ্বীপে বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এর ফলে প্রায় ৫০ হাজার কর্মী নির্ধারিত সীমার বাইরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি শুধু অনিবন্ধিত বা কাগজপত্রহীন কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; জাতীয়তা ও কর্মীসংখ্যার কোটা ব্যবস্থাপনার কারণে বৈধভাবে কাজ করা অনেক বাংলাদেশিও অনিশ্চয়তায় পড়েন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকার মালদ্বীপের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশ স্বীকার করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অর্থনীতিতে কাজ করা কর্মীদের একসঙ্গে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত সমাধান করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও তুলে ধরা হয়, হঠাৎ বিপুলসংখ্যক কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাদের পরিবার ও জীবিকায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। একই সঙ্গে মালদ্বীপের পর্যটন, নির্মাণ, পরিবহন ও সেবা খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এই আলোচনায় মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলামের ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরে বিষয়টি রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়েও গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক মালদ্বীপ সফর এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর পরিস্থিতিতে অগ্রগতি আসে। আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা ও মালদ্বীপের অর্থনীতিতে তাদের অবদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

মালদ্বীপের অর্থনীতি পর্যটন ও সেবাখাতনির্ভর। হোটেল-রিসোর্ট, নির্মাণ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন সেবামূলক কাজে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীরা যুক্ত। বিশেষ করে পর্যটন ও নির্মাণ খাতে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় জানানো হয়।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এসব বাস্তবতা মালদ্বীপের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। ফলে ব্যাপক বহিষ্কারের পরিবর্তে আপাতত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা হয়েছে।

তবে ডিপোর্টেশন স্থগিত হওয়াকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। এখন অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং বৈধ কর্মীদের অবস্থান নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

একই সঙ্গে মালদ্বীপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা, বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং, নির্মাণ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো খাতে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে দুই দেশের মধ্যে নতুন শ্রমচুক্তি বা সমঝোতা স্মারক করা এবং মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একটি নির্ভুল তথ্যভান্ডার তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের শ্রম কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিয়েছে। বিদেশে শুধু শ্রমিক পাঠানো নয়, তাদের বৈধতা, দক্ষতা, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও এখন কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের অংশ হওয়া প্রয়োজন।

প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশির সম্ভাব্য বহিষ্কার আপাতত স্থগিত হওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এই সাময়িক সমাধানকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ, সুশৃঙ্খল কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি শ্রমচুক্তির দিকে এগোতে হবে বাংলাদেশকে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন তামিম ইকবালকে

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনঃ ‘জোরপূর্বক শ্রম’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে বাংলাদেশের নাম কেন?

মাত্র ২৫০০ টাকায় ভিসা নিয়ে ঘুরে আসুন উজবেকিস্তানের