12.5 C
London
May 16, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর আসন টলাতে লেবার দলের অভ্যন্তরে তৎপরতা চরমে

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা গত বৃহস্পতিবার হতে হঠাৎ করে গতি পেয়েছে। লেবার দলের সংসদ সদস্য জোস সাইমনস হঠাৎ করে তার পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ফের সংসদে ফিরতে সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

সাইমনসের আসন মেকারফিল্ডে (উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ড) উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে বার্নহ্যাম নিজেকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে লেবার পার্টির শাসক সংস্থা জাতীয় নির্বাহী কমিটি। এর আগে ডেন্টন উপ-নির্বাচনে বার্নহ্যামকে দাঁড়াতে বাধা দেয় কমিটি। কিন্তু কমিটি এখন নমনীয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রীটিং সরকার থেকে ইস্তফা দেন। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার দলকে কিয়ার স্টারমার নেতৃত্ব দেবেন না—এটা এখন পরিষ্কার। তবে ইলফোর্ড উত্তর অঞ্চলের সংসদ সদস্য স্ট্রীটিং দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের আশাবাদী হলেও, তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লড়াই ঘোষণা করেননি। কারণ লেবার দলের নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের দৌড় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে হলে একজন সংসদ সদস্যকে দলের ৮১ জন সাংসদের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়।

স্ট্রীটিং বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিস্থাপনের প্রতিযোগিতাটি ‘বিস্তৃত’ হওয়া উচিত, যাতে ‘সেরা সম্ভাব্য প্রার্থীরা’ অংশ নিতে পারেন। তিনি এর মধ্য দিয়ে বার্নহ্যামের ফেরার দরজা খুলে দিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বার্নহ্যাম যদি উপ-নির্বাচনে জিতে সংসদে ফিরতে পারেন, তাহলে তিনিও নেতৃত্বের লড়াই শুরু করতে পারেন—যদি তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পান।

নেতৃত্বের দৌড়ে কারা কারাঃ

ওয়েস স্ট্রীটিংঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদ থেকে সদ্য ইস্তফাদাতা স্ট্রীটিং কখনো গোপন করেননি যে তিনি নেতা হতে চান। ২০১৮ সালের একটি পুরনো ভিডিওতে, যখন একদল সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল দশ বছর পর প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, স্ট্রীটিং হেসে বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি সম্ভবত আমিই।’ পূর্ব লন্ডনের কাউন্সিল ফ্ল্যাটে বেড়ে ওঠা এই ৪৩ বছর বয়সী সংসদ সদস্য তার কঠিন সফলতার জন্য প্রশংসিত। তিনি একজন সমকামী ও খ্রিস্টান। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। স্ট্রীটিং টনি ব্লেয়ারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত, তার যোগাযোগ দক্ষতা অসাধারণ। নিজে কিডনি ক্যানসার থেকে বেঁচে যাওয়া এই মন্ত্রীর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মেয়াদ ডাক্তারদের ধর্মঘটে জর্জরিত ছিল। পিটার ম্যান্ডেলসনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা বিতর্ক তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি মাত্র ৫২৮ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জিতেছিলেন।

অ্যাঞ্জেলা রেনারঃ লেবার দলের প্রকৃত শ্রমিকশ্রেণির যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী সম্প্রতি উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। স্টকপোর্টের কাউন্সিল এস্টেটে বেড়ে ওঠা রেনার ১৬ বছর বয়সে মা হন, ৩৭ বছর বয়সে দাদি হন। কোনো যোগ্যতা ছাড়াই স্কুল ছাড়া এই নেত্রী পরে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতিতে পা রাখেন। ২০১৫ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০২০ সালে লেবার দলের উপ-নেতা হন। সম্প্রতি হোভের সমুদ্রতীরবর্তী ফ্ল্যাটের শুল্ক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। রেনার বলেছেন, তিনি নিজে নেতৃত্বের দৌড় শুরু করবেন না, কিন্তু ওয়েস স্ট্রীটিং ছাড়া অন্য কেউ এগিয়ে না এলে তিনি বাম প্রার্থী হিসেবে নাম দিতে পারেন।

কিয়ার স্টারমারঃ নেতৃত্বের দৌড় শুরু হলে তিনিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থী হবেন। তিনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, লড়াই করে যেতে চান। স্টারমার মানবাধিকার ব্যারিস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনিই ‘ম্যাকলিবেল’ মামলায় ম্যাকডোনাল্ডসের বিপক্ষে আইনি লড়াইয়ে পরামর্শ দেন। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের প্রধান অভিযোগ বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিপুল জয় লাভ করেও শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কাটছাঁট ও কল্যাণ সংস্কারের সিদ্ধান্তে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।

অ্যান্ডি বার্নহ্যামঃ জনমত জরিপে এই নেতাই সবার শীর্ষ পছন্দ। ‘উত্তরের রাজা’ নামে খ্যাত বার্নহ্যাম ইতিমধ্যে দুবার লেবার নেতা হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন। তিনি টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় কাজ করেছেন। ইরাক যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়ার বিতর্ক তার রয়েছে। এখন তার সামনে চ্যালেঞ্জ এনইসি’র অনুমতি, উপ-নির্বাচনে জয়, ৮১ সাংসদের সমর্থন ও তারপর নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা জয়।

এড মিলিব্যান্ড: লেবার নেতা মিলিব্যান্ডের নামও আলোচিত হচ্ছে নেতৃত্বের জন্য। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত লেবার নেতৃত্ব দিয়েছেন, কিন্তু সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তখন ২৬টি আসন হারায় তার দল। সেই ব্যর্থতা তার গলার কাঁটা। তার সময়ের ‘এড স্টোন’ ও বেকন স্যান্ডউইচ খাওয়ার অদ্ভুত ছবি এখনো সমালোচিত হয়। তবে দলের বাম পক্ষের সমর্থকেরা তাকে সম্মান করেন।

আল কার্নসঃ সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রী আল কার্নস একটি উদীয়মান নাম। সাবেক মেরিন এই সাংসদ মিলিটারি ক্রস পুরস্কারপ্রাপ্ত। আফগানিস্তানে বিশেষ বাহিনীর কর্নেল হিসেবে কাজ করেছেন। সম্প্রতি নিউ স্টেটসম্যান পত্রিকায় ‘কীভাবে লেবার আবার জিততে পারে’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখে নজর কেড়েছেন। তবে অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন, তিনি রাজনীতিতে ‘অপরীক্ষিত’।

বর্তমানে লেবার দলের অভ্যন্তরে ক্ষমতার অদলবদলের এ খেলা শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে, নাকি স্টারমার টিকে যাবেন—তা দেখার অপেক্ষায় আছে যুক্তরাজ্য। উপ-নির্বাচনের ফল ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তই দিক নির্ধারণ করবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

আমেরিকান সিক্রেট এজেন্টের কারণে যুক্তরাজ্যের এক নার্সের জীবন ঝুঁকির মুখে

১১ মার্চ হতে কেয়ার ওয়ার্কার যুক্তরাজ্যে পরিবার আনতে পারবেন না

যুক্তরাজ্যে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশনে ধরা পড়ল পলাতক শিশু যৌন অপরাধী