9.4 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

অবিস্ফোরিত বিদেশি অস্ত্র ইরানের হাতেঃ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ দেখছে তেহরান

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের ভূখণ্ডে পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত বিদেশি গোলাবারুদকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকেরা এসব অস্ত্রকে দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি “কৌশলগত সুযোগ” হিসেবে দেখছেন। তবে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও বাড়ছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রদেশে প্রায় ১৫টি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করেছে। পরবর্তীতে এসব অস্ত্র গবেষণা ও কারিগরি ইউনিটে পাঠানো হয়েছে, যেখানে সেগুলো বিশ্লেষণ করে এর নকশা ও কার্যপ্রণালী বোঝার চেষ্টা চলছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বাংকার বিধ্বংসী বোমাও রয়েছে। এই ধরনের বোমা সাধারণত গভীর ও সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বিস্ফোরণের আগে বহু স্তরের কংক্রিট বা মাটি ভেদ করতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং—যেখানে কোনো যন্ত্র বা অস্ত্র খুলে তার গঠন ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করা হয়। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান এই পদ্ধতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

দেশটির কট্টরপন্থি গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, যুদ্ধক্ষেত্র এখন তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য এক ধরনের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, অবিস্ফোরিত অস্ত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের উন্নত প্রযুক্তি অনুকরণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যদি এসব উন্নত অস্ত্রের গোপন প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতের সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে প্রতিপক্ষের অস্ত্র ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অতীতেও ইরান এ ধরনের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একটি নজরদারি ড্রোন আটক করার ঘটনা এবং পুরনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অনুকরণ তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

একটি প্রভাবশালী পত্রিকার সম্পাদক এই অর্জনকে আরও বড় পরিসরে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হলে তা ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উপস্থাপক ও বিশ্লেষকেরাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এই অস্ত্রগুলো ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই ব্যবহারের মতো করে তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সরকারপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা এটিকে দেশের জন্য ইতিবাচক এবং প্রতিপক্ষের জন্য নেতিবাচক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। কেউ কেউ ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তির বড় পরিসরে উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

একজন স্থানীয় কর্মকর্তা এই ঘটনাকে “শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং একটি বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের সূচনা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, উদ্ধার করা সরঞ্জামগুলো উন্নত সামরিক প্রযুক্তির গোপন দিক উন্মোচনে সহায়তা করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতির ফলে প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে নতুন অস্ত্র উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সামরিক কার্যক্রমে আরও সতর্ক হতে বাধ্য হতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

আরো পড়ুন

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের গোল্ডেন ভিসা দিচ্ছে আরব আমিরাত

দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসন জারি

নিউজ ডেস্ক

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে মোদি