পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। নৌকাটিতে ৩০৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। দুর্ঘটনার পর এখনো অন্তত ১১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮০ জনের বেশি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে অথবা শুক্রবার সকালে জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে নৌকাটি ডুবে যায়। বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বরাতে বলা হয়েছে, জিবুতির বন্দরনগরী ওবকের উত্তরে গুহেরে এলাকার কাছে নৌকাটি পানিতে উল্টে যায়।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ ও ৪২ জন নারী রয়েছেন। তবে বাকি নিহতদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের দেশগুলো থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার অভিবাসী জিবুতি হয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পেরিয়ে ইয়েমেন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে যাত্রা করেন। নিরাপত্তা, জীবিকার সুযোগ এবং উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তারা এই বিপজ্জনক পথ বেছে নেন। ইয়েমেনে সহিংসতা চলমান থাকলেও অভিবাসীদের এই যাত্রা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম।
জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেকজান্দ্রে কোয়েসাক এই ঘটনাকে প্রাণহানির এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যারা স্বজনদের হারিয়েছেন কিংবা এখনো তাদের কোনো খোঁজ পাননি, তাদের পরিবারগুলোর প্রতি সংস্থাটির সমবেদনা রয়েছে। এই ঘটনা অভিবাসনপথে মানুষের সামনে থাকা ভয়াবহ ঝুঁকির কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।
দুর্ঘটনার পর জিবুতির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে আইওএমের দল। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওবক অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে ৬৪ জন জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
নৌকাডুবির এই ঘটনা আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার বিপজ্জনক অভিবাসনপথে প্রাণহানির ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। নিরাপদ যাত্রার সুযোগের অভাব এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলাচল অভিবাসীদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
সূত্রঃ মিরর
এমকে

