ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল অঙ্গনে যুক্ত হয়েছে বাঙালির গৌরবের নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশের সিলেটের সন্তান রজিউর রহমান মর্তুজা ইংল্যান্ডের ১২৫ বছরের পুরোনো স্কানথর্প ইউনাইটেড এফ.সি–এর সহ-মালিক ও পরিচালক হিসেবে ফুটবল ক্লাবের মালিকানায় যুক্ত হয়ে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে ইংল্যান্ডের ফুটবল ঐতিহ্যের অংশ হয়ে রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক সংকটে পড়ে ক্লাবটি টিকে থাকা নিয়েই অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে রজিউর রহমান এগিয়ে এসে ক্লাবটির একটি অংশের মালিকানা গ্রহণ করেন এবং নতুনভাবে ক্লাবকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তার নেতৃত্বে ক্লাবটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।
রজিউর রহমানের জীবনগাথা সংগ্রাম ও সাফল্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সিলেট থেকে উঠে এসে ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই উদ্যোক্তা কঠোর পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের অধীনে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে বহু আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে প্রবাসী সমাজে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছেন।
ক্লাবটির প্রতি তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্টেডিয়ামের একটি গ্যালারির নামকরণ করা হয়েছে ‘মর্তুজা স্ট্যান্ড’। ইংল্যান্ডের মাটিতে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে বাঙালির নাম যুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যা বিশ্বজুড়ে বাঙালিদের গর্বিত করেছে।
নিজের এই অর্জন সম্পর্কে রজিউর রহমান বলেন, এটি কেবল ব্যবসা নয়, বরং সম্মান ও পরিচয়ের একটি প্রতীক। তিনি সবসময় তার বাংলাদেশি পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে ধারণ করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে চান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, অধ্যবসায়, সততা ও দৃঢ় মনোবল থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাঙালিরা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম। রজিউর রহমান আজ কেবল একজন সফল উদ্যোক্তা নন, বরং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক প্রতিনিধিত্বকারী মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে, ইংল্যান্ডের ফুটবল অঙ্গনে তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি পুরো বাঙালি জাতির জন্য এক গর্বের মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

