নিউইয়র্ক সিটির হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের ব্রডওয়ের নাটক দেখার সুযোগ করে দিতে ২ হাজার ১০০টি বিনামূল্যের টিকিট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন ও থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের যৌথ উদ্যোগে লটারির মাধ্যমে এসব টিকিট দেওয়া হচ্ছে।
১৩ আগস্ট এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন মেয়র জোহরান মামদানি। তার ভাষ্য, ব্রডওয়ে নিউইয়র্কের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও অনেক পরিবারের কাছে এর টিকিটের দাম বেশ চড়া। ফলে শহরের অনেক তরুণ এই সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়। সেই বাধা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই সুবিধা নিউইয়র্কের সব বাসিন্দার জন্য নয়। ২০২৬ সালের শরৎকালেও নিউইয়র্ক সিটির নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়বে—এমন হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। শহরের পাঁচটি বরোর যেকোনো এলাকার যোগ্য শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবে।
লটারিতে নির্বাচিত প্রতিটি শিক্ষার্থী একটি ব্রডওয়ে শো দেখার জন্য দুইটি বিনামূল্যের টিকিট পাবে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী নিজে একটি টিকিট ব্যবহার করার পাশাপাশি তার সঙ্গে একজনকে নিয়ে নাটক দেখতে পারবে। আবেদনের সময় শিক্ষার্থীরা সাতটি নাটকের মধ্য থেকে পছন্দের তিনটি নাটক নির্বাচন করতে পারবে। চাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাটক বেছে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
লটারিতে রাখা হয়েছে ‘বুয়েনা ভিস্তা সোশ্যাল ক্লাব’, ‘ইন দ্য হাইটস’, ‘স্কুল গার্লস’, ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস: দ্য ফার্স্ট শ্যাডো’, ‘দ্য গ্রেট গ্যাটসবি’, ‘দ্য লস্ট বয়েজ’ এবং ‘টু স্ট্রেঞ্জার্স’—এই সাতটি নাটক।
এই কর্মসূচির আরেকটি বিশেষ দিক হলো, লটারিতে টিকিট না পেলেও আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা সুবিধা পাবেন। লটারিতে আবেদন করলেই তারা দুই মাসের জন্য বিনামূল্যে থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সদস্যপদ পাবেন। এর মাধ্যমে ব্রডওয়ে, অফ-ব্রডওয়ে, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠানসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের টিকিট তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া সদস্যপদের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ফলে উদ্যোগটি শুধু একটি নাটক বিনামূল্যে দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং শিক্ষার্থীদের নিউইয়র্কের শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করার লক্ষ্যও রয়েছে।
লটারির আবেদন শুরু হয় ১৩ আগস্ট সকাল ১০টায় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১৭ আগস্ট সকাল ১০টায় আবেদন গ্রহণ শেষ হচ্ছে। লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১ সেপ্টেম্বর ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে।
মেয়র মামদানি এই উদ্যোগকে কেবল বিনোদনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন না। তার বক্তব্য, নিউইয়র্ককে যদি বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়, তাহলে সেই সংস্কৃতির সুযোগ শহরের সাধারণ পরিবারের সন্তানদের কাছেও পৌঁছাতে হবে। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য কম হওয়ার কারণে কোনো তরুণ যেন ব্রডওয়ের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
নিজের ব্রডওয়ে অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন মামদানি। ছোটবেলায় একটি নাটকে অভিনয় করার পাশাপাশি পরে ‘ইন দ্য হাইটস’ দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বলে জানান। তার মতে, এমন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা একজন তরুণের চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে প্রভাবিত করতে পারে।
মামদানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২ হাজার ১০০টি টিকিটের এই কর্মসূচিকে ভবিষ্যতে আরও বড় করার সম্ভাবনা রয়েছে। আরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার পথ খোঁজা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ২ হাজার ফ্রি টিকিট হিসেবে ছড়িয়ে পড়লেও সরকারি ঘোষণায় সঠিক সংখ্যা ২ হাজার ১০০টি। পাশাপাশি এটি মেয়রের ব্যক্তিগত অর্থে টিকিট কিনে দেওয়ার কর্মসূচি নয়; নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন ও থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অংশীদারত্বে এটি পরিচালিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ ব্রডওয়ের বিনোদনকে আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি শহরের তরুণদের শিল্প, নাটক, সংগীত ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার একটি বড় কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে।
সূত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক সিটি গভ\টিডিএফ টিকেট অব টিনস
এম.কে

