ইউরোপে বাড়ি বা সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে প্রায় ৯ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়তে পারেন ব্রিটিশ নাগরিকেরা। ইউরো ও পাউন্ডের বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে সম্পত্তি বিক্রির মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও ব্রিটিশ মুদ্রায় পাওয়া অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মুদ্রা বিনিময় বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো মূল্যের একটি সম্পত্তি বিক্রির অর্থ ব্রিটিশ পাউন্ডে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের পরিবর্তনে ৮ হাজার ৮৮৫ পাউন্ডের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। সম্পত্তির মূল্য বেশি হলে সম্ভাব্য লোকসানের পরিমাণও বাড়তে পারে। ৫ লাখ ইউরোর সম্পত্তি বিক্রিতে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৭৭০ পাউন্ড এবং ১০ লাখ ইউরোর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ হাজার ৫৪০ পাউন্ড হতে পারে।
নিউকুয়ে-ভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান কসমস কারেন্সি এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা টনি রেডোন্ডো বলেন, বিনিময় হারের অস্থিরতা ইউরোপে সম্পত্তি বিক্রির অর্থের প্রকৃত মূল্য নীরবে কমিয়ে দিতে পারে। বিক্রির অর্থ ব্রিটিশ পাউন্ডে রূপান্তরের সময় হাজার হাজার পাউন্ড হারানোর আশঙ্কা থাকে।
তিনি বলেন, সম্পত্তি কেনাবেচার আইনি ও আর্থিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মুদ্রা বিনিময়ের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করলে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রচলিত ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক বিনিময় হারের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ব্যবধান রাখতে পারে, এর সঙ্গে অতিরিক্ত ফিও যুক্ত হতে পারে। বড় অঙ্কের লেনদেনে এই ব্যবধানের কারণে উল্লেখযোগ্য অর্থ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
টনি রেডোন্ডো আরও বলেন, বিশেষায়িত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউরোপে স্থানীয় ইউরো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে সম্পত্তি বিক্রির অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকূল বিনিময় হারে রূপান্তর করার চাপ কমতে পারে। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সীমান্তপারের অর্থ স্থানান্তরের খরচও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
তার মতে, বিনিময় হার ভালো হওয়ার আশায় অপেক্ষা করলেই যে লাভ হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর আগাম বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট হার নিশ্চিত করা যেতে পারে। আবার অর্থ কয়েক ধাপে হাতে এলে পর্যায়ক্রমে তা পাউন্ডে রূপান্তর করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
কারেন্সিস ফোর ইউ-এর ট্রেডিং বিভাগের প্রধান প্রেম রাজা বলেন, বিনিময় হারের পরিবর্তন ইউরোপে সম্পত্তি বিক্রির অর্থের পাউন্ডে রূপান্তরিত মূল্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যদিও ইউরোতে বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত থাকে।
তিনি জানান, চলতি বছরে পাউন্ড সাধারণভাবে ইউরোর বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং ইউরোপের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই ইউরোপে সম্পত্তি বিক্রি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়া ব্যক্তিদের আগেভাগেই মুদ্রা বিনিময়ের পরিকল্পনা করা উচিত।
প্রেম রাজা আরও বলেন, আগাম চুক্তির মাধ্যমে বিনিময় হার নির্ধারণ, কয়েক ধাপে অর্থ রূপান্তর কিংবা নির্দিষ্ট হারে লেনদেনের নির্দেশ দেওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বাজারের সর্বোচ্চ অনুকূল সময় ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হবে।
তার পরামর্শ, সম্পত্তি বিক্রির অর্থ থেকে ব্রিটিশ পাউন্ডে ন্যূনতম কত টাকা পাওয়া প্রয়োজন, তা আগেই নির্ধারণ করে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করা উচিত। বিশেষ করে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে প্রতিকূল বিনিময় হারে অর্থ রূপান্তর এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
সূত্রঃ বার্মিংহাম লাইভ
এমকে

