যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার প্রদানের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ILR একটি “আজীবনের সুবিধা”, যা সরকারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় সৃষ্টি করে। তাই কতজনকে স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং এর ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ওপর কী ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
গতকাল জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাবানা মাহমুদ বলেন, অভিবাসন নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু স্বল্পমেয়াদি শ্রমবাজারের চাহিদা নয়, বরং স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। তার ভাষায়, ILR এমন একটি মর্যাদা, যা একজন ব্যক্তিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করার অধিকার দেয় এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সামাজিক সুবিধা ব্যবহারের সুযোগও তৈরি করে। ফলে এর আর্থিক প্রভাব বহু বছর ধরে রাষ্ট্রকে বহন করতে হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার অভিবাসনের সামগ্রিক প্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখতে চায়, বর্তমান নীতির আওতায় কতজন ব্যক্তি ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হবেন এবং তার ফলে সরকারি ব্যয় কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে। তার মতে, এ ধরনের মূল্যায়ন ছাড়া টেকসই অভিবাসন নীতি প্রণয়ন সম্ভব নয়।
বার্নহাম সরকারের নতুন অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বসবাসের পথকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রকাশিত নীতিগত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ নতুন অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে যুক্তরাজ্যে বসবাসের সময়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, যুক্তরাজ্যে অবদান এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলোও ভবিষ্যতে আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ILR কেবল একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগই দেয় না, বরং পরবর্তীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন করার পথও উন্মুক্ত করে। এছাড়া ILR পাওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে সরকারি সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারও বিস্তৃত হয়। সে কারণে সরকার এখন এই মর্যাদা প্রদানের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় ও জনসেবার ওপর সম্ভাব্য চাপ আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করতে চাইছে।
তবে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে বসবাস ও কর প্রদানকারী ব্যক্তিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সুযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তাদের দাবি, অভিবাসীদের অর্থনৈতিক অবদান, কর প্রদান এবং বিভিন্ন খাতে শ্রমবাজারে ভূমিকার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ব্যয় কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা বার্নহাম সরকারের অন্যতম বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। শাবানা মাহমুদের সর্বশেষ মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার ভবিষ্যতে ILR বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে শুধু মানবিক বা প্রশাসনিক দিক নয়, এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাবকেও নীতিনির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে চায়।
সূত্রঃ ইউকে পার্লামেন্ট
এম.কে

