TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ডিনার এড়িয়ে তড়িঘড়ি দিল্লি ছাড়লেন শি জিনপিংঃ ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক দিনের ভারত সফর শেষে রোববার বিকেলে নয়াদিল্লি ত্যাগ করেছেন। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য শেষ করেই তিনি সরাসরি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। ২০২০ সালের গালওয়ান সীমান্ত সংঘর্ষের পর দীর্ঘ অচলাবস্থা পেরিয়ে এটি ছিল শি জিনপিংয়ের সাত বছরের মধ্যে প্রথম ভারত সফর।

শনিবার উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। তবে সফরের প্রথম দিনে মোদির দেওয়া নৈশভোজে শি জিনপিং অংশ নেননি।

নয়াদিল্লিতে অবস্থানকালে শি জিনপিং তাজ প্যালেস হোটেলে ছিলেন। তার নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে হোটেলটির ওপর কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। হোটেল এলাকাকে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং মোতায়েন করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে হোটেলের কক্ষগুলোও আগেই সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।

১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাও সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

এর আগে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। পরে ভারত ‘চেয়ারস স্টেটমেন্ট’ প্রকাশ করে। তবে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মূল সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে একমত হতে সক্ষম হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যৌথ ছবিতে অংশ নেন শি জিনপিং। পরে মূল অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে তিনি বলেন, “এই সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ স্বার্থের পক্ষে নয়।”

সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেন।

বর্তমানে ১১ সদস্যের জোটে পরিণত হয়েছে ব্রিকস। নয়াদিল্লি সম্মেলনে অপ্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈশ্বিক লেনদেন ব্যবস্থায় সুইফটের বিকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের আপত্তির কারণে পাকিস্তানের ব্রিকস সদস্যপদের আবেদনও স্থগিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শি জিনপিংয়ের ভারত সফরটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়লেও সীমান্ত ইস্যু এখনো সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে রোববার বিকেলে চীনের উদ্দেশে নয়াদিল্লি ছাড়েন শি জিনপিং। আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব চীন গ্রহণ করবে।

সূত্রঃ রয়টার্স\এপি

এম.কে

আরো পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করে না ভারতঃ এস জয়শঙ্কর

হরমুজ প্রণালির পর এবার বাবেল মান্দেবও বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

দুবাই ভ্রমণ বিধিনিষেধ কঠোর করেছে: ভ্রমণের আগে যা জানা প্রয়োজন