16.1 C
London
September 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইমিগ্রেশন চাপের মধ্যে শিক্ষা খাতে কৌশল বদল যুক্তরাজ্যের

যুক্তরাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এসে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী আনার লক্ষ্যমাত্রা বাতিল করে, এর পরিবর্তে বিদেশে যুক্তরাজ্যের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পর্যায়ে বছরে ৪০ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের শিক্ষা রপ্তানি অর্জন।

 

নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষা কৌশলের আওতায় ২০১৯ সালে নির্ধারিত বছরে ৬ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে আনার লক্ষ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এর বদলে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে শিক্ষা কেন্দ্র ও অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে উৎসাহ দেবে সরকার, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দেশেই যুক্তরাজ্যের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোরতর মানদণ্ড চালু করা হবে। কেউ শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার করছে কি না, তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। এসব মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর শিক্ষার্থী ভর্তি সীমা আরোপ বা লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন বলেন, বিদেশে শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আয়ের নতুন উৎস পাবে, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার হবে এবং একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। তার ভাষায়, এতে বিশ্বমানের যুক্তরাজ্য শিক্ষা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সরকার স্পষ্ট করেছে, তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে না এবং যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে আগ্রহী থাকবে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস+ কর্মসূচিতে পুনরায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

তবে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা নতুন কৌশল নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস (NUS UK)-এর সভাপতি আমিরা ক্যাম্পবেল বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু অর্থনৈতিক অবদানই রাখেন না, তারা ক্যাম্পাসের শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সমৃদ্ধ করেন। তার মতে, শিক্ষার্থীরা আলাদা দেশে নয়, বরং একই ক্যাম্পাসে সহপাঠীদের সঙ্গে পড়াশোনা করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে স্থাপিত যুক্তরাজ্যের স্যাটেলাইট ক্যাম্পাসগুলোতেও যেন দেশের মূল ক্যাম্পাসের মতোই উচ্চমানের শিক্ষা ও শিক্ষার্থী অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে গত বছরের শরৎকালীন বাজেটে সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর বছরে ৯২৫ পাউন্ড হারে নতুন লেভি আরোপ করে। এর প্রভাব পড়েছে ভিসা সংখ্যায়ও। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে স্টাডি ভিসা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তবে ইউকাস জানিয়েছে, স্নাতক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন সামান্য বেড়েছে। বিশেষ করে চীন থেকে আবেদনকারীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদেশি ক্যাম্পাস ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

ইউনিভার্সিটিজ ইউকে-এর সভাপতি অধ্যাপক ম্যালকম প্রেস নতুন কৌশলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক সুনাম ও প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার জানিয়েছে, বিদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সহায়তা করা হবে এবং এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ শিক্ষা খাতভিত্তিক অ্যাকশন গ্রুপ গঠন করা হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউকে লটারি ভিসা প্রক্রিয়া মে ২০২৫ঃ ধাপে ধাপে গাইড

টোরি সদস্যরা এখনও বরিস জনসনকে ট্রাস এবং সুনাকের চেয়ে বেশি পছন্দ করেন

ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ ও বিক্ষোভ দমনে কঠোরতায় লাভবান হবে গ্রিন পার্টিঃ ডেভিড ব্লাঙ্কেট