12.2 C
London
October 29, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন নেতানিয়াহুঃ সরকার গঠনে নির্ধারক হতে পারে আরব দল

ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন বলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বিরোধী ইহুদি দলগুলো ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের নেতৃত্বাধীন আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে রাজি হয় কি না, তার ওপর। মঙ্গলবারের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আরব দলগুলোর সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট ও তার মিত্রদের সামনে এখন দুটি পথ রয়েছে। তারা রেকর্ড ১৯টি আসনের দিকে এগিয়ে থাকা আরব ইসরায়েলি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। অন্যথায় নতুন নির্বাচন অথবা জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের মাধ্যমে নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় টিকে থাকার সুযোগ পেতে পারেন।

মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলান জানিয়েছেন, জোট গঠনের আলোচনা নিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার তিন নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় থাকবেন বিরোধী শিবিরের প্রধান প্রার্থী ও ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট এবং বিরোধী জোট বিয়াচাদের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদ। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট আলোচনা শুরু হতে পারে।

এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের বিরোধী নেতাদের মধ্যে গোলানই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে সরকার গঠনের আলোচনায় তার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে, নির্বাচনের ফল নিয়ে অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির অভিযোগ, আরব দলগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সততা ক্ষুণ্ন করেছে। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ না করেই দলটি পুলিশ ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, লিকুদ পার্টির অভিযোগ তারা পেয়েছে। নির্বাচনের পর নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে অভিযোগগুলো পরীক্ষা করা হবে। আংশিক নির্বাচনী ফলাফলে আরব দলগুলো নতুন সরকার গঠনে নির্ধারক ভূমিকা রাখতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পরই লিকুদ পার্টি এই অভিযোগ তোলে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক আশা প্রকাশ করেছেন, ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তুর্ক বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান যুদ্ধনীতি অব্যাহত রাখা উচিত নয়, যেখানে আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে থাকার মনোভাব দেখা যায়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে ইসরায়েলের দায়িত্ব রয়েছে এবং দেশটিকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তুর্ক আশা করেন, পরবর্তী সরকার এই অবস্থান পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে।

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা এখন বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটতে পারে। অন্যদিকে, সমঝোতা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচন কিংবা জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পথ খুলে যেতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান\ টাইমস অব ইসরায়েল

এমকে

আরো পড়ুন

ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যেই তেহরানে হাত বাড়াল লন্ডনঃ ইরানের সঙ্গে বৈঠকে এড মিলিব্যান্ড

নিউজ ডেস্ক

৩ দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আশ্রয় দেবে ভারত

বিদেশিদের স্বল্পমেয়াদী ভিসা দিচ্ছে সৌদিআরব

নিউজ ডেস্ক