গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জেরে দেশটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের প্রস্তাব আটকে দিয়েছে জার্মানি ও ইতালি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) লুক্সেমবার্গে ইইউ সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে জোটের সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনার সময় এই বিভক্তি স্পষ্ট হয়।
স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া, এই তিনটি দেশ গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে ২০০০ সাল থেকে কার্যকর থাকা ‘ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিল।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস সাংবাদিকদের বলেন, আমি আশা করি প্রতিটি ইউরোপীয় দেশ আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার আহ্বান মেনে চলবে। এর ব্যতিক্রম হওয়া মানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরাজয়। আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি বলেন, আমাদের মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াদেফুল স্পেনের এই অনুরোধকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যেকোনও সমস্যা ইসরায়েলের সঙ্গে ‘গঠনমূলক সংলাপের’ মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। জার্মানির পাশাপাশি হাঙ্গেরি ও চেক প্রজাতন্ত্রও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক।
ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নই ইসরায়েলের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এই চুক্তির অনুচ্ছেদ ২-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, দুই পক্ষের সহযোগিতা ‘মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধার’ ওপর ভিত্তি করে চলবে। সমালোচকদের দাবি, ইসরায়েল এই অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে, যা চুক্তিটি স্থগিতের জন্য যথেষ্ট।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ৬০টিরও বেশি মানবাধিকার সংস্থা ইউরোপীয় কমিশনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চুক্তি স্থগিত করা, অবৈধ বসতির পণ্য নিষিদ্ধ করা এবং ইসরায়েলে অস্ত্র স্থানান্তর বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া গত ১৫ এপ্রিল জাস্টিস ফর প্যালেস্টাইন ইউরোপীয় সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভ (ইসিআই) নামে একটি প্রচারণায় ১০ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী, এত বিপুল সংখ্যক স্বাক্ষরের পর কমিশন এখন এই দাবির প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিতে বা নিজেদের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে বাধ্য।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান হামলার প্রতিবাদেই এই চুক্তি স্থগিতের দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভট স্বীকার করে বলেছেন, বিভিন্ন দেশের ভিন্ন অবস্থানের কারণে পূর্ণাঙ্গ স্থগিতাদেশ পাওয়া বর্তমানে প্রায় অসম্ভব।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

