TV3 BANGLA
ফিচার

এআইয়ের লাগামহীন দৌড়ঃ মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে ভয়াবহ সতর্কতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে প্রযুক্তি গবেষকদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে অতিবুদ্ধিমান এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন এআই নিরাপত্তা গবেষকদের একটি অংশ। অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের প্রধান ইভান হুবিঙ্গার বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে তিনি মনে করেন।

বর্তমানে ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো থেকে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে উল্লেখ করলেও হুবিঙ্গারের আশঙ্কা ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা নিয়ে। তার মতে, সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরি হলে সেটিকে মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে নিরাপদভাবে সামঞ্জস্য রাখার সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি।

অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনও এআই উন্নয়নের বর্তমান গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি গবেষণাগারগুলোর মধ্যে স্ব-উন্নয়ন সক্ষম সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতাকে মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে দেখেছেন। তার পদত্যাগের পর এআইয়ের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের গতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের একটি বড় অংশ হলো এমন এআই ব্যবস্থা তৈরি হওয়া, যা নিজেই আরও সক্ষম হয়ে উঠতে পারে এবং মানুষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই জটিল কাজ পরিচালনা করতে পারে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উন্নত এআই ব্যবস্থার ওপর স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।

আমোদেই স্পষ্ট করেছেন, তিনি এআই উন্নয়ন সম্পূর্ণ বন্ধ করার কথা বলছেন না; বরং আরও নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ গতিতে উন্নয়ন চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে সময় প্রয়োজন।

তার এই আহ্বানের সঙ্গে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও সমর্থন জানিয়েছেন। এআই শিল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিদের একই বিষয়ে সতর্ক হওয়ায় উন্নয়নের গতি বনাম নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এআই এজেন্টের মাধ্যমে সাইবার হামলা ও অননুমোদিত কার্যক্রম পরিচালনার ঘটনা সামনে আসার পর উন্নত এআই ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করবে—এমন বিষয়ে প্রযুক্তি খাতে সর্বসম্মত অবস্থান নেই। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এআই মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এ ধরনের ভয়কে অতিরঞ্জিত হিসেবে দেখেছেন।

এআইয়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক ব্যবহার নিয়েও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আশাবাদ রয়েছে। রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ আবিষ্কার, চিকিৎসা গবেষণা এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উন্নত এআই বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রয়েছে। আমোদেই নিজেও এআইয়ের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে গুরুত্বপূর্ণ রোগের চিকিৎসায় বড় অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

ফলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এখন এআই উন্নয়ন বন্ধ করা নয়, বরং কত দ্রুত এবং কোন নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে উন্নত এআই তৈরি করা হবে। উন্নয়নের গতি, স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা, আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের হাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতা—এই বিষয়গুলোকে ঘিরেই প্রযুক্তি খাতে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

ইভান হুবিঙ্গারের ১০ শতাংশের বেশি ঝুঁকির হিসাব তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন; এটি কোনো সর্বসম্মত বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়। একইভাবে, জেনসেন হুয়াংসহ প্রযুক্তি খাতের অন্য ব্যক্তিরা এ ধরনের অস্তিত্বগত ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেফ কিশোয়ার চৌধুরীর নতুন বইয়ে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সবজি রান্নার স্বাদ

ইউরোপের চার দেশে যাবে রাজশাহীর আম

দাম ৩৫ লাখ! নাম ‘বেনাপোলের বস’

অনলাইন ডেস্ক