13.3 C
London
October 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিঃ যুক্তরাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের

আফ্রিকার কয়েকটি দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব মহাদেশের দেশগুলোকে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে করোনাভাইরাসের মতোই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবোলার বিরল বুন্দিবুগিও ধরনে সৃষ্ট বর্তমান প্রাদুর্ভাবে চারটি আফ্রিকান দেশে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কঙ্গোতে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মহাপরিচালক ডা. জ্যঁ কাসেয়া এই প্রাদুর্ভাবের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর দিকের পরিস্থিতির তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের শুরুতে অনেক দেশ মনে করেছিল তাদের আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেসব দেশ সংক্রমণের বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। ইবোলার ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশগুলোকে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেখতে চান না তারা।

গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে কঙ্গোতে বর্তমান প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। এটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ভয়াবহ ইবোলা মহামারিকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সংক্রমণ ইতোমধ্যে কঙ্গোর সীমানা পেরিয়ে অন্যান্য দেশেও পৌঁছেছে। চলতি মাসের শুরুতে কেনিয়ায় প্রথম ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে নাইরোবিতে যাওয়া এক ব্যক্তি সেখানে মারা যাওয়ার পর দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে। গত সপ্তাহে নাইজেরিয়াও ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের কথা জানায়। এর মধ্য দিয়ে আফ্রিকার চতুর্থ দেশ হিসেবে দেশটিতে সংক্রমণের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।

আফ্রিকা মহাদেশের বাইরে এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সে। গত জুনে কঙ্গো থেকে ফিরে আসা এক চিকিৎসকের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।

ডা. জ্যঁ কাসেয়া বলেন, শুধু আফ্রিকার দেশগুলো নয়, বিশ্বের প্রতিটি মহাদেশের সরকারকে এখনই সতর্ক হতে হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধ, আক্রান্ত রোগী শনাক্ত এবং চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তার ভাষায়, ইবোলার ইতিহাসে এই প্রথম আফ্রিকার তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ভৌগোলিক বিস্তারের দিক থেকে এটি নজিরবিহীন পরিস্থিতি।

১৯৭৬ সালে প্রথমবার কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। বর্তমান প্রাদুর্ভাব দেশটিতে ইবোলার ১৭তম সংক্রমণ পরিস্থিতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বুন্দিবুগিও ধরনে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ২১ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে পেশিতে ব্যথা, উচ্চ তাপমাত্রা, মাথাব্যথা ও গলাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি বমি ও ডায়রিয়াও হতে পারে।

সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত, বমি কিংবা শরীরের অন্যান্য তরলের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির মৃতদেহের সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো নিরাময় নেই।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জরুরি ভিত্তিতে একটি টিকা তৈরির কাজ করছেন। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই টিকা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে কঙ্গোর সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি ইবোলা নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে আক্রান্তদের শনাক্ত করা, চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় একটি ‘শান্তির করিডর’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাতে যাচ্ছেন ডা. কাসেয়া। আগামী নভেম্বর মাসে আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তার লক্ষ্য, রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের বাইরে রেখে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা।

ইবোলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকেও অর্থ সহায়তা চেয়েছেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সরকার মোট ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে প্রতিশ্রুত অর্থের মধ্যে এখনো ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি পাওয়া বাকি রয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলো নিজেরাও ১২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, চিকিৎসা প্রস্তুতি এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিস্তার আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে স্কুল প্রাঙ্গণে অস্ত্রসহ আশ্রয়প্রার্থীঃ পুলিশের দেহক্যামেরায় ধরা পড়ল নাটকীয় গ্রেপ্তারের দৃশ্য

খেতে খেতে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা, শাস্তি পেলেন চালক

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ‘রাইট টু বাই’ নীতিতে বড় পরিবর্তনঃ সামাজিক আবাসন কিনতে অপেক্ষা ১০ বছর