TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

গঙ্গা চুক্তি ঘিরে ভারতের ওপর বড় চাপঃ বাংলাদেশের সঙ্গে পানির হিসাব এবার বিহারকেন্দ্রিক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের বিহার রাজ্যের পানির চাহিদা ও স্বার্থকে বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে ‘উপযুক্ত পদক্ষেপ’ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে দেশটির বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষমতাসীন জোটের শরিক জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) কার্যকরী সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝাকে লেখা এক চিঠিতে। গত ৬ আগস্ট রাজ্যসভায় বিহারের পানির বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার দাবি জানান সঞ্জয় ঝা। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের পানির স্বার্থ নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তিনি।

এরপর গত ২৮ আগস্ট সঞ্জয় ঝাকে চিঠি দেন জয়শঙ্কর। চিঠিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সঞ্জয় ঝার উদ্বেগ তারা পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন। চুক্তিটির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ দিকগুলো সার্বিকভাবে পর্যালোচনার জন্য ভারতের পানিশক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জয়শঙ্কর আরও জানান, ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট ও ৩০ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে অনুষ্ঠিত পরামর্শসভাগুলোতে বিহার সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এসব সভায় বিহারের পানীয় জল ও শিল্পকারখানার পানির চাহিদাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে জয়শঙ্কর বলেন, এসব বিষয় মাথায় রেখেই ভারত সরকার উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিহারের পানির চাহিদা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিটি ৩০ বছর মেয়াদি। চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানির প্রবাহ বিবেচনা করে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ভারতের জোটসঙ্গী জেডিইউ দীর্ঘদিন ধরে বিহারের জন্য গঙ্গার পানিতে আরও ন্যায্য হিস্যার দাবি জানিয়ে আসছে। সঞ্জয় ঝা বলেছেন, বিহার কোনো অনুগ্রহ চাইছে না; বরং বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এমন পানির হিস্যা চায়, যাতে আগামী ৩০ বছরে রাজ্যটির প্রায় ১৩ কোটি মানুষ পানীয় জল, সেচ ও শিল্পের পানির সংকটে না পড়ে।

জয়শঙ্করের চিঠির প্রতিক্রিয়ায় সঞ্জয় ঝা বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাস বিহারের প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বস্তির বিষয়। একই সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তাতে বিহারের স্বার্থ যেন পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায্যভাবে বিবেচিত হয়—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

সঞ্জয় ঝা আরও বলেন, গঙ্গা ও এর উপনদীগুলোর পানিতে বিহারের জন্য সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি জেডিইউ অব্যাহত রাখবে। এর আগে পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি এবং বিহারের জন্য ন্যায্য বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বিহারের অভ্যন্তরীণ পানির চাহিদা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়টি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবার চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিহারের পানির চাহিদাকে কীভাবে বিবেচনা করে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গঙ্গার পানিবণ্টন শুধু দুই দেশের আন্তসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, নৌপথ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িত। ফলে ১৯৯৬ সালের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন কোনো ব্যবস্থা বা চুক্তি হলে সেখানে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিই ঢাকার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ইকোনমিক টাইমস, হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

আপা আপা বলা তানভীরঃ আ. লীগ দ্বারা নির্যাতিত দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পেয়েছেন!

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ট্রাম্পের সমবেদনা

ব্যাংক–এমএফএসে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেনঃ নতুন যুগে পা রাখল বাংলাদেশের পেমেন্ট ব্যবস্থা