TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

গাজা ইস্যুতে বার্নহামের ওপর চাপ বাড়ালেন জেরেমি করবিনঃ ‘গণহত্যা’ তদন্তে বিল সমর্থনের আহ্বান

গাজায় চলমান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ইয়োর পার্টি-এর সংসদীয় নেতা জেরেমি করবিন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, গাজায় কথিত “গণহত্যায় ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা” নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব সমর্থন করতে।

স্কাই নিউজের হাতে আসা এক চিঠিতে করবিন তার উত্থাপিত প্রাইভেট মেম্বার্স বিল-এর প্রতি সরকারের সমর্থন চান। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, বিলটি পাস হলে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে, যার ক্ষমতা থাকবে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার। তদন্তে যুক্তরাজ্যের ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ, রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF)-এর ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি এবং গাজা পরিস্থিতিকে গণহত্যা হিসেবে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া আইনি পরামর্শসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

চিঠিতে করবিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে গাজা যুদ্ধের শুরুতে লেবার পার্টির প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল না এবং তা অনেক মানুষের কষ্টের কারণ হয়েছে। তবে করবিনের ভাষায়, বিষয়টি শুধু ভুল প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি দাবি করেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান “গণহত্যায় ব্রিটেন সম্পৃক্ত” এবং এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও লেখেন, সরকারের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—একটি হলো ইতিহাসের “সঠিক পাশে” দাঁড়িয়ে সত্য উদঘাটনের উদ্যোগকে সমর্থন করা, আর অন্যটি হলো সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা। করবিনের ভাষায়, শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই দাবি থেকে তারা সরে আসবেন না।

চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম গাজা যুদ্ধের শুরুতে লেবার পার্টির অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলটি বিষয়টি “সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি” এবং আরও ভালো করা উচিত ছিল। তবে তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে “গণহত্যা” শব্দটি ব্যবহার করেননি। তার পরিবর্তে তিনি বলেন, সেখানে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রমাণ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

অন্যদিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সংসদের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সিলেক্ট কমিটিকে জানিয়েছিলেন, সরকার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি যে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশন অনুযায়ী গণহত্যা প্রমাণের জন্য কোনো জাতীয়, জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন, এবং সরকারের মূল্যায়নে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

এদিকে, ইসরায়েলও গাজায় গণহত্যার অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে এবং জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, করবিনের এই উদ্যোগ গাজা ইস্যুতে লেবার সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি, অস্ত্র রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে বিতর্ক তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজায় সংঘাত নিয়ে “গণহত্যা” হয়েছে কি না—এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কিত একটি আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন। বিভিন্ন পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ছোট নৌকায় অভিবাসন বেড়েই চলেছে, ২০২৫ হলো ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বছর

ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ

রুয়ান্ডায় মানবাধিকার কর্মী প্রবেশে বাঁধা দেয়ায় প্রশ্নের মুখে যুক্তরাজ্যের রুয়ান্ডানীতি