যুক্তরাজ্যে চাকরি করা, অবসর নেওয়া, সন্তান লালন-পালন, কারও দেখাশোনা করা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যার সঙ্গে বসবাসকারী মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা রয়েছে। তবে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে এসব সুবিধার বিষয়ে না জানার কারণে আবেদন করেন না বলে জানিয়েছে ডেইলি এক্সপ্রেস।
পার্সোনাল ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ জো লিটউইনের মতে, কেউ চাকরি করেন বা তার সঞ্চয় রয়েছে—শুধু এই কারণে তিনি সরকারি সহায়তার জন্য অযোগ্য হয়ে যাবেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। যোগ্যতা নির্ধারণে পরিবারের আয়, সঞ্চয়, বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং পারিবারিক পরিস্থিতিসহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়।
ইউনিভার্সাল ক্রেডিটঃ কম আয়ের ব্যক্তি এবং বেকারদের জন্য ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দেওয়া হয়। তবে শুধু বেকার ব্যক্তিরাই এটি পাবেন, এমন নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চাকরিজীবীরাও ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পেতে পারেন। সাধারণভাবে ১৬ হাজার পাউন্ডের বেশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ থাকলে এর ক্ষেত্রে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হয়। সরকারি ২০২৬/২৭ সালের নিয়মেও ১৬ হাজার পাউন্ডের মূলধনসীমা উল্লেখ রয়েছে।
পেনশন ক্রেডিটঃ স্টেট পেনশন বয়সে পৌঁছানো কম আয়ের ব্যক্তিদের আয় বাড়াতে পেনশন ক্রেডিট দেওয়া হয়। ২০২৬/২৭ অর্থবছরে একক ব্যক্তির জন্য স্ট্যান্ডার্ড মিনিমাম গ্যারান্টি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৩৮ পাউন্ড এবং দম্পতির জন্য ৩৬৩.২৫ পাউন্ড। পেনশন ক্রেডিটের ক্ষেত্রে সঞ্চয় থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন বাতিল হয় না।
কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশনঃ কম আয়ের ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিরা কাউন্সিল ট্যাক্সে ছাড় পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে এই সুবিধার নিয়ম স্থানীয় কাউন্সিলভেদে আলাদা হওয়ায় প্রত্যেককে নিজের কাউন্সিলের নিয়ম যাচাই করতে হয়।
কেয়ারার্স অ্যালাওয়েন্সঃ কোনো যোগ্য প্রতিবন্ধী সুবিধা পাওয়া ব্যক্তির দেখাশোনায় সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা ব্যয় করলে কেয়ারার্স অ্যালাওয়েন্স পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হতে পারে। ২০২৬/২৭ অর্থবছরে কেয়ারার্স অ্যালাওয়েন্সের হার সপ্তাহে ৮৬.৪৫ পাউন্ড। তবে এ ক্ষেত্রে উপার্জনের নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে।
অ্যাটেনডেন্স অ্যালাওয়েন্সঃ স্টেট পেনশন বয়সে পৌঁছানো কোনো ব্যক্তি প্রতিবন্ধকতা বা স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে ব্যক্তিগত যত্ন কিংবা তত্ত্বাবধানের প্রয়োজন হলে অ্যাটেনডেন্স অ্যালাওয়েন্স পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সুবিধা আয় বা সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় না।
পার্সোনাল ইনডিপেনডেন্স পেমেন্ট বা পিআইপিঃ দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাপন ও চলাফেরায় অতিরিক্ত খরচ হলে পিআইপি পাওয়া যেতে পারে। শুধু কোনো নির্দিষ্ট রোগ বা স্বাস্থ্যগত সমস্যার নামের ওপর ভিত্তি করে পিআইপি দেওয়া হয় না; ওই সমস্যা ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন ও চলাফেরায় কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, সেটিই বিবেচনার বিষয়। ২০২৬/২৭ সালে পিআইপির ডেইলি লিভিং কম্পোনেন্টের স্ট্যান্ডার্ড হার সপ্তাহে ৭৬.৭০ পাউন্ড এবং এনহ্যান্সড হার ১১৪.৬০ পাউন্ড। মোবিলিটি কম্পোনেন্টের হার যথাক্রমে ৩০.৩০ ও ৮০ পাউন্ড।
হেলদি স্টার্টঃ গর্ভবতী নারী এবং চার বছরের কম বয়সী সন্তান থাকা পরিবার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে স্বাস্থ্যকর খাবার, দুধ ও ভিটামিন কেনার জন্য সহায়তা পেতে পারে। যোগ্যতা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। স্কটল্যান্ডে এ ক্ষেত্রে আলাদা বেস্ট স্টার্ট ফুডস ব্যবস্থা রয়েছে।
ফ্রি স্কুল মিলসঃ নির্দিষ্ট নিয়ম পূরণ করা পরিবারগুলো সন্তানের জন্য বিনামূল্যে স্কুলের খাবার পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে ২০২৬/২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই সুবিধার যোগ্যতার নিয়ম সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পাওয়া পরিবারগুলোর সন্তানদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
ওয়ার্ম হোম ডিসকাউন্টঃ যোগ্য পরিবারগুলো বিদ্যুৎ বিলে ১৫০ পাউন্ড পর্যন্ত ছাড় পেতে পারে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ২০২৬/২৭ সালের যোগ্যতা নির্দিষ্ট আয়-ভিত্তিক সরকারি সুবিধার সঙ্গে যুক্ত। স্কটল্যান্ডে আলাদা নিয়ম রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কিমটি অক্টোবর ২০২৬ থেকে আবার চালু হওয়ার কথা।
হাউজিং সাপোর্টঃ ভাড়া বাসায় থাকা ব্যক্তি এবং যাদের আবাসন খরচ রয়েছে, তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী ইউনিভার্সাল ক্রেডিট বা হাউজিং বেনিফিটের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
জো লিটউইন বলেন, নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী কী কী সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে, তা যাচাই করতে কয়েক মিনিট সময় ব্যয় করলেও কারও আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে। চাকরি শুরু করা, অবসর নেওয়া, বাসা পরিবর্তন, কারও দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়া কিংবা সন্তান হওয়ার মতো পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে নতুন করে যোগ্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের গভ ডট ইউকে বেনিফিটস ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি তার আয়, সঞ্চয়, পারিবারিক অবস্থা এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে কী ধরনের সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, তা যাচাই করতে পারেন। বিভিন্ন সুবিধার নিয়ম ও হার পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়ম পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

