TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে অনড় মরিশাসঃ ব্রিটেনকে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে বিরোধ তীব্র হচ্ছে মরিশাসের। চুক্তি কার্যকরে বিলম্বের কারণে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটি। মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলাম জানিয়েছেন, দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন দ্রুত সমাধান না হলে তার দেশ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।

গত সপ্তাহে লন্ডন সফরের সময় ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেন রামগুলাম। তিনি স্পষ্ট করে জানান, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ওপর মরিশাসের সার্বভৌমত্বের দাবি কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপও রয়েছে।

গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মরিশাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল সেখানে বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্ত ও মতামত অনুসরণ করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা আরও শক্তিশালী হয়। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের পরামর্শমূলক মতামতের কথাও উল্লেখ করেন।

তবে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে সমালোচনা করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দিয়েগো গার্সিয়ার কৌশলগত গুরুত্বও তুলে ধরেন। দ্বীপটিতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং স্বীকার করেছেন, ট্রাম্পের সমর্থন ছাড়া চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তবে ব্রিটিশ সরকার এখনো চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি।

জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান না হলে মরিশাস আইনি পথে এগোতে পারে। এ লক্ষ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লন্ডন সফরে তার আইনজীবীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। মরিশাসের মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানানো হয়েছে, দ্রুত সমাধান না এলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ব্রিটেন চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করবে। বিনিময়ে দিয়েগো গার্সিয়ার সামরিক ঘাঁটি ৯৯ বছর ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে। জিবি নিউজের প্রতিবেদনে চুক্তিটির আর্থিক মূল্য দীর্ঘ মেয়াদে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটেনে চুক্তিটির বিরোধিতা করছে রিফর্ম ইউকে ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা। সাবেক ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেম প্রীতি প্যাটেল দাবি করেছেন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের পরিবর্তে ব্রিটেনের উচিত নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, দিয়েগো গার্সিয়ার সামরিক ঘাঁটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বজায় রাখা ব্রিটেনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করা এবং ব্রিটিশ স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই মরিশাস ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চলছে।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এমকে

আরো পড়ুন

‘শীতল যুদ্ধের চেয়েও বড় হুমকিতে ব্রিটেন’, সেনাবাহিনী দ্রুত শক্তিশালী করার আহ্বান

যুক্তরাজ্যে দেড় লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দুই বেডরুমের ফ্ল্যাট

যুক্তরাজ্যে শীতকালীন জ্বালানি ফান্ড প্রায় লাখ টাকা সহায়তা দিচ্ছে সরকার