21.3 C
London
June 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

জাতীয় টিভিতে আশ্রয়প্রার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়ঃ নিরপেক্ষতা প্রশ্নে চাপে বিবিসি

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করানোর পেছনে অভিবাসনপন্থী একটি দাতব্য সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ। এ অভিযোগ সামনে আসার পর রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের ডোভারে ধারণ করা অভিবাসনবিষয়ক বিশেষ পর্বে দুই আশ্রয়প্রার্থী অংশ নিয়ে রিফর্ম ইউকের তৎকালীন নীতিনির্ধারণী প্রধান জিয়া ইউসুফের মুখোমুখি হন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে একজন ইরানি আশ্রয়প্রার্থী আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন ও শরণার্থীদের অধিকার নিয়ে প্রস্তুত করা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপর জিয়া ইউসুফ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিযোগ করেন যে, তাকে পরিকল্পিতভাবে বিব্রত করার জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে।

সম্প্রচারিত পর্বটি নিয়ে পরে এক হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগকারীদের অনেকেই দাবি করেন, অনুষ্ঠানটিতে অভিবাসন প্রশ্নে একপাক্ষিক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

টেলিগ্রাফের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সহায়তা করেছে ‘ইমিক্স’ নামের একটি দাতব্য সংস্থা, যার ঘোষিত লক্ষ্য হলো অভিবাসন বিষয়ে জনসমর্থন বৃদ্ধি করা। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জেনি রিগ্যানও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং অভিবাসন কমানোর বিরুদ্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে অভিবাসন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরির জন্য কাজ করছে। তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানকে এমন একটি ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, যেখানে সাধারণ মানুষের মতামত প্রভাবিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আফগান আশ্রয়প্রার্থী আশরাফ বলেন, নিজ দেশ নিরাপদ না থাকায় তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। উপস্থাপক ফিওনা ব্রুস তার শরণার্থী পরিচয় উল্লেখ করে দর্শকদের সামনে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে আরেকজন ইরানি অংশগ্রহণকারী মোবাইল ফোন থেকে একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। তিনি যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক শরণার্থী সনদ থেকে সরে গেলে শুধু শরণার্থীদের নয়, ব্রিটিশ নাগরিকদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে জেনি রিগ্যান অনুষ্ঠানে বলেন, বৈধ ও অবৈধ অভিবাসনের মধ্যে তিনি কোনো মৌলিক পার্থক্য দেখেন না। তার মতে, অভিবাসন কমিয়ে দেওয়া হলে জনসেবা খাত দুর্বল হবে, অপেক্ষার সময় বাড়বে এবং কর্মীর সংকট আরও তীব্র হবে।

রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়েছে, এই ঘটনা বিবিসির সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দলটির দাবি, অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের জাতীয় টেলিভিশনে এনে অভিবাসন সংকট নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া সাধারণ ব্রিটিশ জনগণের সঙ্গে অবিচার।

তবে বিবিসি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, অভিবাসন বিতর্কে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সব ধরনের অনুষ্ঠান ও বিষয়বস্তুর ওপর বিবিসির পূর্ণ সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।

অন্যদিকে ইমিক্স জানিয়েছে, বিবিসির অনুরোধেই তারা আশ্রয়প্রার্থী পটভূমির দুই ব্যক্তিকে খুঁজে দিতে সহায়তা করেছিল। অংশগ্রহণের আগে তাদের শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রস্তুতি দেওয়া হয়েছিল। তারা দুজনই বর্তমানে বৈধ শরণার্থী মর্যাদা নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং স্বেচ্ছায় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই ইংলিশ চ্যানেল হয়ে অবৈধ অভিবাসন প্রবাহ আবারও আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ একদিনে ৭১০ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক সংখ্যা। এর ফলে এ বছর এখন পর্যন্ত চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন এখন যুক্তরাজ্যের অন্যতম স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। ফলে এ ধরনের অনুষ্ঠান, দর্শক নির্বাচন এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় ষাঁড়ের আগমন – বাংলাদেশও অবাক!

স্টারমারের আহ্বানঃ ডানপন্থার উত্থান ঠেকাতে ইসিএইচআর সীমিত করার পথে ইউরোপ

নিউজ ডেস্ক

হোম অফিসের কর্মকর্তার ঘুষ কেলেঙ্কারিঃ বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীসহ দুজনের জেল