আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অধিনায়ক ও ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় জাতীয় দলের জার্সিতে আর না খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
মেসি জানান, দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারজুড়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন তার আর দেওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই। একই সঙ্গে জাতীয় দলে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মেসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের দুই দিন পর, ২১ জুলাই তিনি বিদায়ী বার্তাটি লিখেছিলেন। তবে তার বাবার মৃত্যুর পর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে তিনি আরও দৃঢ় হন।
বিদায়ী বার্তায় গত দুই দশক ধরে সমর্থনের জন্য আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মেসি। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য, কোচ, সতীর্থ ও জাতীয় দলের কর্মকর্তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শিরোপায় সমৃদ্ধ। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপ জয় করে। এর আগে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০০৮ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদকও জেতেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেন মেসি। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পরই জাতীয় দল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সফল খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার নেতৃত্বেই দীর্ঘ শিরোপাখরা কাটিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারও চ্যাম্পিয়ন হয়।
বিদায়ী বার্তার শেষ দিকে মেসি আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের আবেগ প্রকাশ করে লেখেন, ‘ধন্যবাদ ঈশ্বর, আমাকে আর্জেন্টাইন করার জন্য। ভামোস আর্জেন্টিনা।’
মেসির বিদায়ের ঘোষণায় আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের প্রায় দুই দশকের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। এখন প্রশ্ন, তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় দলের নেতৃত্ব ও আক্রমণভাগের দায়িত্ব কে নেবেন এবং মেসিকে ঘিরে গড়ে ওঠা সাফল্যের ধারাবাহিকতা আর্জেন্টিনা কতটা ধরে রাখতে পারবে।
সূত্রঃ রয়টার্স \ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

