জাপানে গত কয়েক দশকে মুসলিম সম্প্রদায়ের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও অনুমানভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৫ সালের শুরুর দিকে দেশটিতে বসবাসকারী মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। এই সংখ্যার মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি জাপানি মুসলিমরাও রয়েছেন।
গবেষকদের মতে, জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে ক্রমবর্ধমান অভিবাসন। ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী ও শিক্ষার্থীদের জাপানে আগমন বাড়ায় দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিদেশি কর্মী, আন্তঃদেশীয় বিবাহ এবং কিছু জাপানি নাগরিকের ইসলাম গ্রহণও মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এসব পরিবর্তনের ফলে জাপানে একসময় তুলনামূলকভাবে ছোট মুসলিম সম্প্রদায় বর্তমানে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাপানে মসজিদ ও ইসলামি স্থাপনাও বেড়েছে। গত কয়েক দশকে দেশটির বিভিন্ন শহরে নতুন নতুন মসজিদ ও ইসলামি কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এর ফলে মুসলিমদের নামাজ আদায়, ধর্মীয় শিক্ষা ও অন্যান্য ইসলামি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।
শুধু মসজিদ নয়, মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রয়োজন মেটাতেও জাপানের বিভিন্ন এলাকায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি শহরে হালাল খাবার, নামাজের স্থান এবং মুসলিমদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা আগের তুলনায় বেশি সহজলভ্য হয়েছে।
বিশেষ করে বিদেশি মুসলিম শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সুবিধার চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রমবর্ধমান এই চাহিদার প্রতি নজর দিচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
তবে জাপানে ইসলামের বিস্তার নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। অনেক জায়গায় ইসলামকে দেশটির ‘সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এই দাবিটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা কঠিন। এর প্রধান কারণ হলো, জাপানে সব ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা নির্ধারণের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
তারপরও জাপানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিস্তারের প্রবণতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ রয়েছে। অভিবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপানের ধর্মীয় বৈচিত্র্যও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে।
একসময় জাপানের মুসলিম সম্প্রদায় ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট এবং সীমিত পরিসরে দৃশ্যমান। কিন্তু বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন শহরে মসজিদ, ইসলামি কেন্দ্র, হালাল খাবারের ব্যবস্থা এবং মুসলিমদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সুবিধা গড়ে ওঠায় সম্প্রদায়টি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
জাপানি নাগরিকদের একটি অংশের ইসলাম গ্রহণও এই পরিবর্তনের আরেকটি দিক। যদিও ধর্মান্তরিত জাপানিদের সংখ্যা বিদেশি মুসলিমদের তুলনায় অনেক কম, তবুও এটি দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্য বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
সামগ্রিকভাবে, জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিবাসন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বিবাহ এবং সীমিত পরিসরে ধর্মান্তরের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। এর সঙ্গে মসজিদ ও ইসলামি সুবিধা বৃদ্ধির ফলে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সূত্রঃ নিউজ কাশ্মীর
এম.কে

