20.7 C
London
September 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

জুয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বেটিং শপে ট্যাক্স বাড়াতে চান ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের হাই স্ট্রিট পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনায় বেটিং শপ বা জুয়ার দোকান নিয়ে ব্রিটেনের লেবার পার্টির ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বার্নহাম হাই স্ট্রিটে বাড়তে থাকা ভ্যাপের দোকান, ‘বিধিবহির্ভূত ব্যবসা’ ও বেটিং শপকে স্থানীয় কমিউনিটির জন্য কম উপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করলেও লেবারের কয়েকজন এমপি বেটিং শপের কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নিয়ন্ত্রিত জুয়া খাতের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে লেবারের কয়েকজন ব্যাকবেঞ্চ এমপি মনে করছেন, বেটিং শপকে শুধু জুয়ার স্থান হিসেবে দেখলে এর সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় চাকরি এবং হাই স্ট্রিটে মানুষের চলাচলের বিষয়টি উপেক্ষিত হতে পারে।

ব্রেন্ট ইস্টের এমপি ডন বাটলার অবশ্য বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বেটিং শপ বাড়ানোর কোনো দাবি শোনেননি। স্থানীয় মানুষ ক্যাফে, বেকারি, জিম, ফুলের দোকানসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ব্যবসার মাধ্যমে হাই স্ট্রিটকে আরও কার্যকর দেখতে চান বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে বারমন্ডসি ও ওল্ড সাউথওয়ার্কের লেবার এমপি নিল কোয়েল বেটিং শপের অর্থনৈতিক ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি বেটিং শপে প্রায় সাতটি স্থানীয় চাকরি থাকতে পারে এবং এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় হাই স্ট্রিটে মানুষের চলাচল বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

নিল কোয়েল বেটিং শপের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রিত বেটিং শপ বন্ধ হয়ে গেলে কিছু জুয়াড়ি অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের দিকে চলে যেতে পারেন, যেখানে গ্রাহক সুরক্ষার কাঠামো ভিন্ন হতে পারে।

নিউক্যাসল আপন টাইন ইস্ট অ্যান্ড ওয়ালসেন্ডের লেবার এমপি মেরি গ্লিনডনও বেটিং শপের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেটিং একটি বৈধ অবসর বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং প্রতি মাসে লাখ লাখ মানুষ এতে অংশ নেন। তার মতে, অধিকাংশ মানুষ নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে বেটিং করেন।

ব্রিটেনে বেটিং শপের সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বেটিং অ্যান্ড গেমিং কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে ৩ হাজারের বেশি বেটিং শপ বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ১৬ হাজার কর্মসংস্থান হারিয়েছে।

এখন নতুন করে জুয়া খাতের ওপর কর বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। মেশিন গেমস ডিউ ২০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। বেটিং অ্যান্ড গেমিং কাউন্সিলের হয়ে ইওয়াইয়ের করা মডেলিংয়ে বলা হয়েছে, কর দ্বিগুণ করা হলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বেটিং শপ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং প্রায় ১৫ হাজার ৯০০ চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

একই মডেলিংয়ে বলা হয়েছে, এমন কর বৃদ্ধি হলে সরকারের ট্রেজারি রাজস্বও প্রায় ১২৪ মিলিয়ন পাউন্ড কমে যেতে পারে। তবে এই হিসাব শিল্পখাতের পক্ষে করা পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং কর পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব ভবিষ্যতে ভিন্ন হতে পারে।

ল্যাডব্রোকস ও কোরালের মালিক প্রতিষ্ঠান এনটেইনের প্রধান স্টেলা ডেভিডও সম্ভাব্য কর বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আরও কর বৃদ্ধি হলে যুক্তরাজ্যে তাদের খুচরা ব্যবসা পরিচালনার বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড বাড়তে পারে।

এদিকে বেট৩৬৫-এর পক্ষ থেকেও কর বৃদ্ধির কারণে স্টোক-অন-ট্রেন্টের সদর দপ্তরে ৩০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। বেটফ্রেডের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেড ডোন সতর্ক করে বলেছেন, মেশিন গেমস ডিউ ২০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে বাড়লে তার প্রতিষ্ঠানকে ৪৯৫টি বেটফ্রেড শপ বন্ধ করতে হতে পারে এবং এতে ২ হাজার ৫৭৫টি চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

বেটিং অ্যান্ড গেমিং কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বেটিং শপ বন্ধ হওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তাদের হিসাবে, ২০২৫ সালের বাজেটের পর এক বছরের মধ্যে ৫৪০টির বেশি হাই স্ট্রিট বেটিং শপ বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কর্মসংস্থান হারিয়েছে।

তবে বেটিং শপ বা জুয়ার ব্যবসা নিয়ে বিতর্কের আরেকটি দিক হলো স্থানীয় হাই স্ট্রিটের ভবিষ্যৎ। কোনো বেটিং শপ বন্ধ হলে সেখানে নতুন ক্যাফে, দোকান বা অন্য ব্যবসা গড়ে উঠতে পারে—আবার জায়গাটি দীর্ঘ সময় খালিও পড়ে থাকতে পারে। কোন পরিস্থিতি বেশি হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় চাহিদা ও নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার সুযোগের ওপর।

প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার লক্ষ্য হাই স্ট্রিটকে আরও সক্রিয় ও স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। অন্যদিকে লেবারের কয়েকজন এমপি বলছেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

ফলে ব্রিটেনে বেটিং শপ বা জুয়া খাত নিয়ে আলোচনা এখন শুধু জুয়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কর্মসংস্থান, হাই স্ট্রিটের ব্যবসা, স্থানীয় অর্থনীতি, কর রাজস্ব এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তার—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

ছোটখাটো আইনভঙ্গে মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হবে না

নিষিদ্ধ হোক বোরখা, প্রকাশ্যে নামাজেও আপত্তি, ব্রিটিশ এমপির মন্তব্যে বিতর্ক

ভুক্তভোগীদের আটক রেখে ফ্রান্সে ফেরতঃ প্রশ্নের মুখে যুক্তরাজ্যের ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ নীতি