13.2 C
London
September 16, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নাগরিকত্বের পথে নতুন শর্ত আনছে আয়ারল্যান্ডঃ ভাষা ও সিভিক্স পরীক্ষার প্রস্তাব

আয়ারল্যান্ডে নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যকর হলে দেশটিতে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করতে প্রয়োজনীয় বসবাসের সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করা হতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি এবং আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তা কার্যকর হবে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভাষাজ্ঞান যাচাই। নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ইংরেজি, আইরিশ অথবা আইরিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হতে পারে। পরীক্ষায় কোন স্তরের ভাষাজ্ঞান প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারণ করা হতে পারে।

নাগরিকত্বের জন্য একটি সিভিক্স পরীক্ষার প্রস্তাবও রয়েছে। এতে আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সমাজ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে আবেদনকারীর জ্ঞান যাচাই করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধি মেনে চলার বিষয়টি নাগরিকত্বের যোগ্যতা নির্ধারণে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান নাগরিকত্ব ব্যবস্থায় এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এনেছেন। প্রস্তাবগুলো আইরিশ ন্যাশনালিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬-এর মাধ্যমে আইনগত কাঠামোয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন ব্যবস্থায় সাধারণত গত নয় বছরের মধ্যে পাঁচ বছর ‘রেকনেবল রেসিডেন্স’ বা গণনাযোগ্য বৈধ বসবাসের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে আবেদনের ঠিক আগের এক বছর ধারাবাহিকভাবে আয়ারল্যান্ডে বসবাসের শর্ত রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের সময় নিয়ে ইতোমধ্যে পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে পাঁচ বছর গণনাযোগ্য বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হয়েছে।

আইরিশ নাগরিকের বিদেশি স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনারদের জন্যও নাগরিকত্বের নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাতেও ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি ন্যাচারালাইজেশনের নিয়ম থেকে আলাদা। আইরিশ বাবা-মা বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানির মাধ্যমে নাগরিকত্বের যোগ্যতা অর্জনের নিয়ম এই প্রস্তাবের সঙ্গে সরাসরি এক নয়।

আইরিশ সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে ভাষা পরীক্ষা, সিভিক্স পরীক্ষা, দীর্ঘতর বসবাসের সময় এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কোন শর্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা আইন প্রণয়নের পরই চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হবে।

আরটিই নিউজ, আইরিশ টাইমস, আইরিশ এক্সামিনার এবং আইরিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনো আইন হিসেবে চূড়ান্ত হয়নি। তাই বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ম এবং ভবিষ্যতের প্রস্তাবিত নিয়মকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

সূত্রঃ আরটিই নিউজ, দ্য আইরিশ টাইমস, আইরিশ এক্সামিনার, আইরিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিস এবং ফ্র্যাগোমেন

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে দুর্বল পাসওয়ার্ডের ডিভাইস

ব্রিটেনে দুই তৃতীয়াংশ তরুণী কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার

যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে আকস্মিক বন্যাঃ যাত্রীদের গাড়ি নয়, ট্রেনে যাওয়ার পরামর্শ