ইউরোপের জনপ্রিয় অভিবাসন গন্তব্য পর্তুগাল নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা ভবিষ্যতে আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে। নতুন সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি আন্তোনিও জোসে সেগুরো।
নতুন আইনের আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ বসবাসের সময়সীমা আগের ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে এখন ভাষাভিত্তিক সহযোগী দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ৭ বছর এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার অন্যতম সহজ দেশ হিসেবে পরিচিত পর্তুগালে এখন এই প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে।
আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো সময় গণনার নিয়মে। আগে নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়ার সময় থেকে বসবাসের সময় হিসাব করা হলেও, এখন থেকে প্রথম আবাসিক অনুমতির তারিখ থেকেই সময় গণনা শুরু হবে। এতে আবেদনকারীদের জন্য অপেক্ষার সময় আরও বেড়ে যাবে।
এছাড়া, পর্তুগালে জন্ম নেওয়া বিদেশি বাবা-মায়ের সন্তানের নাগরিকত্বের ক্ষেত্রেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। এখন বাবা-মায়ের নির্দিষ্ট সময় বৈধভাবে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের জন্য দেশটির ভাষায় দক্ষতা এবং সমাজের সঙ্গে বাস্তব সংযোগ প্রমাণ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংশোধিত আইনটি ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল দেশটির সংসদে পাস হয় এবং ৩ মে রাষ্ট্রপতি এতে স্বাক্ষর করেন। তবে এটি কার্যকর হবে সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর, যেখানে নির্দিষ্ট কার্যকর হওয়ার তারিখ উল্লেখ থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই আইন কার্যকর হলে পর্তুগালে নাগরিকত্ব পাওয়া আগের তুলনায় আরও সময়সাপেক্ষ ও কঠিন হয়ে উঠবে, যা নতুন অভিবাসীদের পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

