12.1 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
প্রবাসে বাংলাদেশ

পাঁচ বছরের ধৈর্যের ফসল, প্রবাসী সেলিমের হাত ধরে মরুভূমিতে স্বপ্নের কাঁঠালবাগান

যেখানে ঘাস জন্মানোই দুঃসাধ্য, সেখানে ফলেছে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। মরুভূমির দেশ ওমানের আল সুইক অঞ্চলে চট্টগ্রামের আনোয়ারার প্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম পাঁচ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় মরুর বুকে ফুটিয়ে তুলেছেন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই ফলের সবুজ বাগান।
উদ্ভিদবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, কাঁঠাল আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল অঞ্চলের ফল। এর আদি নিবাস দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চল। অন্যদিকে ওমানের মাটি বালুকাময় ও ক্ষারীয়, তাপমাত্রা গ্রীষ্মে ৪৫-৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে, পানি লবণাক্ত। এই প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে সেলিম রীতিমতো অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।
পাঁচ বছর আগে শখের বসে কয়েকটি চারা রোপণ করলে প্রতিবেশী ও কৃষিবিদরা বিষয়টিকে ‘পাগলামি’ আখ্যা দিলেও আজ সেই গাছগুলো ফলে ফলে ভরেছে। প্রবাসীরা জানিয়েছেন, ওমানে উৎপাদিত কাঁঠালের আকার, গায়ের রং ও মিষ্টতা বাংলাদেশের কাঁঠালের মতোই। পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস প্রবাসীদের দেশের মাটিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, “বাংলাদেশের কৃষকদের মেধা ও শ্রম দুই-ই আছে। মরুভূমির মতো প্রতিকূল পরিবেশে এমন চাষ প্রমাণ করে সঠিক কৌশল জানা থাকলে সফল হওয়া সম্ভব।”
উল্লেখ্য, ওমানে কাঁঠাল চাষ নতুন নয়। দক্ষিণ ওমানের সালালাহ অঞ্চলে ওমানি কৃষক আহমেদ সাঈদ মাসউদ আল কাথিরি ৪২ হাজার ওমানি রিয়াল ব্যয়ে গভীর নলকূপ খনন করে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের ৯টি প্রজাতির ৩০০টি কাঁঠাল গাছ রোপণ করে সফল হয়েছেন। চলতি বছর তিনি প্রায় ৯ টন কাঁঠাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছেন।
প্রবাসী প্রকৌশলী আলী আশরাফ মত দেন, বাংলাদেশ দূতাবাস বা সরকারের কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা পেলে ওমানের মাটিতে বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব। তাতে শুধু দেশের পরিচিতিই বাড়াবে না, বরং প্রবাসীদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচন করবে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ হতে আসা আশ্রয় আবেদনকারীরা কানাডায় বাসে ঘুমাচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্রে শীতে মারা গেলেন বাংলাদেশি অন্ধ শাহ আলম

নিউজ ডেস্ক