ব্রিটেনে ৪৩ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ইরানের নাগরিক হোসেইন মাহমুদিকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন। লন্ডনের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টের বিচারক সারাহ-জেন গ্রিফিথস তাকে ‘বিপজ্জনক যৌন শিকারি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বড়দিনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওই নারী। মাহমুদি প্রায় ৫৫ মিনিট ধরে তাকে অনুসরণ করেন এবং একই বাসেও ওঠেন। পরে একটি গলিতে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় পথচারী একজন এগিয়ে এসে বাধা দিলে ঘটনাটি থেমে যায়।
বিচার চলাকালে মাহমুদি দাবি করেন, তার পুরুষাঙ্গের আকার খুব ছোট হওয়ায় তার পক্ষে ধর্ষণ করা সম্ভব ছিল না। এ দাবি যাচাই করতে কারাগারে তার কাছে দুই চিকিৎসক পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, স্থূলতা, ধূমপানের অভ্যাস ও বিষণ্নতার কারণে তার যৌনসম্পর্কের সক্ষমতা বা আগ্রহ ছিল না। তবে বিচারক তার এসব যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক বলেন, তিনি ওই ওয়েবসাইটে ইংরেজি শেখার জন্য গিয়েছিলেন—এমন দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং তার যৌনসম্পর্কে সক্ষমতা ছিল। আদালতে তার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণকে বিচারক অত্যন্ত জোরালো বলে উল্লেখ করেন।
আদালতকে জানানো হয়, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার মাত্র তিন মাস আগেও মাহমুদির আচরণে এক নারী আতঙ্কিত হয়েছিলেন। ওই নারীকে বাড়ি পর্যন্ত অনুসরণ করা, বাইরে অপেক্ষা করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভেতরে উঁকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ডাকা হয়েছিল। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের এক নারী বারকর্মীকে অনুসরণ এবং অন্য এক নারীকে তার কর্মস্থলের ইমেইলে বারবার বার্তা পাঠিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও আদালতে তুলে ধরেন কৌঁসুলি ক্রিস্টিয়ান মল।
বিচারক বলেন, তার সন্দেহ হয় যে মাহমুদি গভীর রাতে রাস্তায় ঘুরে এমন কাউকে খুঁজছিলেন, যার সুযোগ নিয়ে তিনি ক্ষতি করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এ অপরাধ ভুক্তভোগীর ওপর গুরুতর মানসিক প্রভাব ফেলেছে এবং অভিযুক্তের মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
ভুক্তভোগী নারী আদালতে বলেন, সেদিন একজন পথচারী বাধা না দিলে তার বিশ্বাস, মাহমুদি তাকে হত্যা করতে পারতেন। ঘটনার পর তার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে বলেও জানান তিনি। বড়দিনের সময়টি আগে তার কাছে আনন্দের ছিল, কিন্তু এখন উৎসবের আলো ও অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ তাকে ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাহমুদির অস্বীকৃতির কারণে যৌনবাহিত সংক্রমণ পরীক্ষার বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে ভুক্তভোগী নারীকে এইচআইভি ও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে ওষুধ নিতে হয়েছিল। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার পেট, ওজন ও কর্মশক্তির ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ে বলে তিনি আদালতকে জানান।
মাহমুদিকে ১১ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি চার বছরের বর্ধিত লাইসেন্স মেয়াদ দেওয়া হয়েছে। বিচারক জানিয়েছেন, কারাদণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ ভোগের পর তাকে প্যারোলের জন্য মূল্যায়ন করা হবে। সাজা ভোগের পর তাকে ব্রিটেন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
দ্য সানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জার্মানিতে বসবাসের সময় মাহমুদির বিরুদ্ধে হামলা ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের পাঁচটি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল। ব্রিটেনে ছোট নৌকা চালিয়ে প্রবেশের ঘটনায় তিনি আগে ১০ মাস কারাগারে ছিলেন। পরে তাকে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে রাখা হয়। তার আইনজীবী আদালতে জানান, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের কারণে লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় তিনি দেশটি ছেড়েছিলেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা থমাস মিডেন বলেন, ভুক্তভোগী কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্যেও অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। তার আশা, আদালতের রায় ভুক্তভোগীকে কিছুটা হলেও ন্যায়বিচারের অনুভূতি দেবে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত নারী ও মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক এবং পথচারী বাধা না দিলে আরও ক্ষতি করার উদ্দেশ্য তার ছিল।
সূত্রঃ দ্য সান
এমকে

