দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক-কে বাংলাদেশে গ্রাউন্ড স্টেশন ও আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাব নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অনুমোদনের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রস্তাবটির অনুমোদন দেয়। এর ফলে স্টারলিংক বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংযোগ অবকাঠামো স্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে।
এই অনুমোদনের আওতায় স্টারলিংক বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হলো।
তিন বছরের একটি চুক্তির আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) স্টারলিংকের প্রধান ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে। প্রয়োজনে চাহিদা পূরণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার@হোম থেকেও ব্যান্ডউইথ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য রপ্তানিকৃত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ কোনো সরকারি ফায়ারওয়াল বা কনটেন্ট ফিল্টারিংয়ের আওতায় থাকবে না। অর্থাৎ বিদেশি গ্রাহকদের জন্য এটি হবে আনফিল্টারড ইন্টারনেট।
তবে দেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা আগের মতোই বিদ্যমান আইন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে।
দীর্ঘ কারিগরি পর্যালোচনার পর বিটিআরসি শর্ত দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ইন্টারনেট ট্রাফিকের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো সম্পূর্ণ পৃথক রাখতে হবে। ফলে রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক দেশের কোনো নাগরিক বা বিদেশি পর্যটক ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারীদের ডেটা ও ইন্টারনেট ট্রাফিক বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার অধীনেই পরিচালিত হবে।
স্টারলিংক ইতোমধ্যে সরকারের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রযুক্তিগত নথিপত্র এবং মনিটরিং ব্যবস্থা বিটিআরসির কাছে জমা দিয়েছে।
এম.কে

