TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধেই ট্রাফিক মামলাঃ ৬ হাজার টাকা জরিমানা

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ব্যবহৃত গাড়ির বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। একই সঙ্গে গাড়িটির চালককে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধেই আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা ও জরিমানার ঘটনায় বিষয়টি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রীর গাড়িটি নির্ধারিত লেন না মেনে চলছিল। পরে সচিবালয়ের সামনে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট গাড়িটি থামিয়ে দেন।

ট্রাফিক পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, বেপরোয়া ও ভুল লেনে গাড়ি চালানোর কারণে চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। দুই মামলায় মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঘটনার সময় মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত নিজেও গাড়িটির ভেতরে ছিলেন।

তবে ঘটনার পর মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়াই বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। নিজের ব্যবহৃত গাড়ি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করায় তিনি দুঃখ প্রকাশ ও অনুতপ্ত হন। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ তার গাড়ির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী জানান, তিনি এ ঘটনায় ‘খুশি’। কারণ তার মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আইন সবার জন্য সমান এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

সরকারের একজন মন্ত্রীর গাড়ি আইন ভঙ্গের অভিযোগে আটক করে মামলা ও জরিমানা করার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্ন ধরনের বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গাড়ি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলেও অনেক সময় ছাড় পাওয়ার যে ধারণা রয়েছে, এই ঘটনা তার বিপরীত একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

মন্ত্রীও বিষয়টিকে আইনের শাসনের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা থাকা উচিত নয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধেই যখন ট্রাফিক পুলিশ আইন অনুযায়ী মামলা করতে পারে, তখন সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন প্রয়োগ আরও কঠোর ও সমানভাবে হওয়া উচিত।

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে লেন মেনে চলা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে।

সব মিলিয়ে, মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানার ঘটনাটি শুধু একটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির গাড়ির ক্ষেত্রেও আইন প্রয়োগের একটি আলোচিত দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো\ স্টার নিউজ\ বিডিনিউজ২৪

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরি নিয়ে হলিউডের তথ্যচিত্র ‘বিলিয়ন ডলার হাইস্ট’ আসছে

নেক্সট টিভি ও লাইভ টিভির লাইসেন্স বিতর্কঃ এনসিপি নেতা ও ঘনিষ্ঠের নামে অনুমোদন

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকবে চীনঃ চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন