11.4 C
London
May 17, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

‘বেশিরভাগ ইরানির নাম মুহাম্মদ’— মন্তব্য করে সমালোচনায় ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের নাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। চীন সফর শেষে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং শিন জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন।

ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে এবং মহাকাশ থেকে মানুষের পরিচয় পর্যন্ত শনাক্ত করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, “আমরা সেখানে কে চলাফেরা করছে সব জানি। আমরা একজন মানুষের নাম পর্যন্ত পড়তে পারি। যদি তার নাম ‘মুহাম্মদ কিছু একটা’ হয় — আর তাদের বেশিরভাগের নামই মুহাম্মদ — তাহলে প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ঠিক ধরতে পারবেন।”

তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি মুসলিম ও ইরানিদের সম্পর্কে সাধারণীকরণমূলক এবং বিতর্কিত বক্তব্য।

দ্য বাম্প ডট কম-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘মুহাম্মদ’ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নামগুলোর একটি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, তার প্রতিষ্ঠিত মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তিনি বলে আসছেন, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এতটাই ধ্বংস হয়েছে যে অবশিষ্ট সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও উদ্ধার করার সক্ষমতা নেই।

নিটাইম ডট কম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যে “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা দিয়ে হামলার পর অবশিষ্ট উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে বোঝানো হয়েছে।
অন্যদিকে, একই সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শিন জিনপিংয়ের ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতির প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, “আপনি যদি চলচ্চিত্রে চীনের নেতার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কাউকে খুঁজতেন, তাহলে তাকেই বেছে নিতেন। তার উপস্থিতি অসাধারণ।”
ট্রাম্প আরও জানান, শিন জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীন বর্তমানে ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দরে নৌ অবরোধ জোরদার করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

মদিনাকে ‘স্বাস্থ্যকর শহর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মসজিদ ভাঙ্গা নিয়ে উত্তপ্ত চীন, চলছে বিক্ষোভ

ট্রাম্পের উপর হামলাকারী কে এই টমাস ম্যাথিউ?