TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব নয়ঃ মানতে হবে কঠোর শর্ত

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে বিদেশি স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনারকে নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে। যুক্তরাজ্যের হোম অফিস প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি নির্দেশিকায় আবেদনকারীদের জন্য আবাসন, ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, ভাষাগত যোগ্যতা, বিদেশে অবস্থানের সীমা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

হোম অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনার হিসেবে নাগরিকত্বের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের ঠিক আগের তিন বছর যুক্তরাজ্যে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। এই তিন বছরের হিসাব অত্যন্ত কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয়। আবেদনপত্র হোম অফিসে পৌঁছানোর তারিখের ঠিক তিন বছর আগে আবেদনকারী যদি যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থান করেন, তাহলে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

সরকারি নির্দেশিকায় একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদি কোনো আবেদন ২০ জুন ২০২২ তারিখে হোম অফিসে পৌঁছায়, কিন্তু আবেদনকারী ১০ জুন ২০১৯-এ যুক্তরাজ্য ত্যাগ করে ২৫ জুন ২০১৯-এ ফিরে আসেন, তাহলে তিনি ওই তারিখে আবেদন করার যোগ্য হবেন না। সে ক্ষেত্রে বৈধভাবে আবেদন করার প্রথম সুযোগ হবে ২৪ জুন ২০২২।

তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিয়মে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অথবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্য ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হলে হোম অফিস আবেদনটি বিশেষ বিবেচনায় নিতে পারে।

নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে আবেদনকারীর অবশ্যই Indefinite Leave to Remain (ILR), EU Settlement Scheme-এর Settled Status অথবা Indefinite Leave to Enter (ILE) থাকতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীকে ইংরেজি, ওয়েলশ অথবা স্কটিশ গেইলিক ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে, Life in the UK Test-এ উত্তীর্ণ হতে হবে এবং হোম অফিসের Good Character শর্ত পূরণ করতে হবে।

যোগ্যতার সময়সীমায় আবেদনকারী যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। যদিও হোম অফিস জানিয়েছে, সাধারণত ILR বা ILE পাওয়ার আগের সময়ের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নতুন করে তদন্ত করা হয় না।

আবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারী তিন বছরের যোগ্যতার সময়ে মোট ২৭০ দিনের বেশি যুক্তরাজ্যের বাইরে থাকতে পারবেন না। এছাড়া আবেদন করার আগের শেষ ১২ মাসে বিদেশে অবস্থানের সময় ৯০ দিনের বেশি হওয়া যাবে না। আবেদনপত্রে বিদেশ সফরের সম্পূর্ণ বিবরণ দিতে হবে এবং প্রয়োজনে হোম অফিস নিজস্ব রেকর্ডের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কূটনীতিক, কূটনীতিকের পরিবারের সদস্য বা সফররত বিদেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্যে কাটানো সময় এই তিন বছরের হিসাবের মধ্যে গণনা করা হবে না। তবে যাদের ব্রিটিশ স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাজ্য সরকারের হয়ে বা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে বিদেশে কর্মরত, তাদের ক্ষেত্রে আবাসন-সংক্রান্ত কিছু শর্তে বিশেষ ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে।

বর্তমানে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য মোট আবেদন ব্যয় ১ হাজার ৮৩৯ পাউন্ড। এর মধ্যে আবেদন ফি ১ হাজার ৭০৯ পাউন্ড এবং নাগরিকত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত ১৩০ পাউন্ড দিতে হয়।

হোম অফিস জানিয়েছে, সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছয় মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত ফি দিয়ে Priority Service গ্রহণ করলে সাধারণত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব। যদিও ভিসা ও সেটেলমেন্ট আবেদনের ক্ষেত্রে চালু থাকা Super Priority Service নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য প্রযোজ্য নয়।

এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে যদি আবেদনকারীর ব্রিটিশ স্বামী বা স্ত্রী মারা যান, তাহলে ওই বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন চালিয়ে যাওয়া যাবে না। তবে আবেদনকারীর যদি ILR বা অন্য কোনো যোগ্য ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকে, তাহলে তিনি বিকল্প আইনি ব্যবস্থার আওতায় ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।

হোম অফিস বলছে, নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশিকা ভালোভাবে পর্যালোচনা করা এবং সব শর্ত পূরণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সামান্য ভুল বা অনুপস্থিত তথ্যের কারণেও আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

সূত্রঃ লিজিট

এম.কে

আরো পড়ুন

বহু আশ্রয়প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয় হোম অফিস

টাওয়ার হ্যামলেটসে মুখোশধারী বিক্ষোভে ক্ষুব্ধ নাইজেল ফারাজঃ ‘এ যেন বিদেশি বাহিনীর আগ্রাসন’

আভা হোয়াইট হত্যাকাণ্ড: ভ্যানের ছবি প্রকাশ করল পুলিশ