TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে গ্রিন পার্টির মতিন আলীর আবাসননীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

ব্রিটেনের গ্রিন পার্টির বেসরকারি বাড়িওয়ালাবিরোধী নীতি নিয়ে দলের কো-ডেপুটি লিডার মতিন আলীকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের এক মতামতধর্মী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রিন পার্টি বেসরকারি বাড়িওয়ালা ব্যবস্থা বিলোপের পক্ষে অবস্থান নিলেও মতিন আলীর একটি কোম্পানির নামে ভাড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তি রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিন পার্টি গত বছর ‘অ্যাবোলিশ ল্যান্ডলর্ডস’ বা ‘বাড়িওয়ালা ব্যবস্থা বিলোপ’ শিরোনামে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। সেখানে বেসরকারি বাড়িওয়ালা ব্যবস্থা এবং বেসরকারি ভাড়া আবাসন খাত কার্যকরভাবে বিলুপ্ত করে ব্যাপক পরিসরে কাউন্সিল হাউজিং নির্মাণকে ব্রিটেনের আবাসন সংকট মোকাবিলার পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মতিন আলী ‘এমএ হোল্ডিংস’ নামে একটি কোম্পানির একমাত্র পরিচালক। কোম্পানিটির আওতায় দুটি আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পত্তি বাই-টু-লেট মর্টগেজের মাধ্যমে কেনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কোম্পানিজ হাউজেসের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমএ হোল্ডিংসের ব্যবসার প্রকৃতির মধ্যে রয়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি কেনাবেচা, নিজস্ব বা লিজ নেওয়া সম্পত্তি ভাড়া দেওয়া এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিডসের দুটি সম্পত্তির একটি ২০২২ সালের জুনে এবং অন্যটি ২০২৫ সালের মার্চে কেনা হয়। তবে গ্রিন পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্পত্তিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্বল অবস্থায় থাকা পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য এবং মতিন আলী এগুলো থেকে ব্যক্তিগতভাবে মুনাফা করছেন—এমন কোনো তথ্য নেই।

মতিন আলী এর আগে জানিয়েছেন, তিনি গ্রিন পার্টির নীতিকে সমর্থন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলো দলটি বেসরকারি বাড়িওয়ালা ব্যবস্থা বিলোপের নীতি গ্রহণের আগেই কেনা হয়েছিল।

এদিকে গ্রিন পার্টির আরেক কো-ডেপুটি লিডার র‌্যাচেল মিলওয়ার্ডের স্বামীও একজন বেসরকারি বাড়িওয়ালা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিলওয়ার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সম্পত্তির মালিকানা বা আর্থিক সুবিধার সঙ্গে তার নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে গ্রিন পার্টির পাশাপাশি ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক নীতি ও ব্যক্তিগত আচরণের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি স্কুলের ফিতে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের নীতিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন লেবার রাজনীতিকের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুলের ফিতে ভ্যাট আরোপের ফলে কয়েকটি স্কুল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক চাকরি হারানো এবং রাষ্ট্রীয় স্কুল ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

লেবার এমপি লুইস হেইগ ওই নীতির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিজে শেফিল্ড হাই স্কুলের মতো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টারের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটেনের এনার্জি সেক্রেটারি মিয়াটা ফানবুলে অবশ্য সন্তানদের স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলে পড়ানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পছন্দের অধিকার থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া লেবার এমপি ডায়ান অ্যাবট ২০০৩ সালে তার ছেলেকে বেসরকারি স্কুলে পড়ানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবাসন সংকট, বেসরকারি ভাড়া খাত এবং কাউন্সিল হাউজিং নিয়ে গ্রিন পার্টির অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। সাম্প্রতিক বিতর্কে দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা ও দলের ঘোষিত নীতির মধ্যে সামঞ্জস্যের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস\ দ্য টেলিগ্রাফ \ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

করবিন-সুলতানার নেতৃত্বে নতুন বামঘেঁষা দল গঠনের ঘোষণা, লেবার ছাড়লেন জারা সুলতানা

নিউজ ডেস্ক

এসাইলাম প্রার্থীদের আবাসনের স্থান দিতে চায় না এসেক্সের স্থানীয় বাসিন্দারা

হোম অফিসকে যেভাবে আনন্দময় করে তুলতে পারবেন

অনলাইন ডেস্ক