13.3 C
London
October 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে বন্ধ হচ্ছে প্রচলিত ল্যান্ডফোন সেবাঃ জানুয়ারির আগেই ফোন পরীক্ষা করার সতর্কতা

 

ব্রিটেনে প্রচলিত ল্যান্ডফোন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দেশটির পুরোনো তামার তারনির্ভর টেলিফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর পরিবর্তে চালু হবে ব্রডব্যান্ডনির্ভর নতুন প্রযুক্তি ‘ডিজিটাল ভয়েস’। এই পরিবর্তনের আগে বাড়িতে ব্যবহৃত ল্যান্ডফোন পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত প্রচলিত ল্যান্ডফোন ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে এখনো অনেক পরিবার প্রস্তুত নয়। ব্রডব্যান্ড তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন ব্যবস্থায় স্থানান্তর নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসচেতনতা রয়েছে।

ব্রডব্যান্ড তুলনামূলক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্রডব্যান্ড জিনির নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষই জানেন না যে ল্যান্ডফোন ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন আসছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সতর্কবার্তা বা হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার পরও প্রতি সাতজনের একজন তা উপেক্ষা করেছেন।

ব্রডব্যান্ড জিনির কৌশলবিদ অ্যালেক্স টফটস বলেন, এই পরিবর্তনের প্রস্তুতির জন্য বাজারের হাতে প্রায় এক দশক সময় ছিল। তারপরও লাখ লাখ পরিবার শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি নেওয়ার চাপে পড়তে পারে। তার মতে, পুরোনো তামার তারের নেটওয়ার্কের অনেক অংশ উনিশ শতক থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতের জন্য দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ ফাইবার নেটওয়ার্ক প্রয়োজন।

নতুন ব্যবস্থায় ল্যান্ডফোন ব্যবহার অব্যাহত রাখতে গ্রাহকদের ফোনের সংযোগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমানে ফোনের তার দেয়ালের পুরোনো টেলিফোন সকেটে যুক্ত থাকলে সেটি খুলে সরাসরি ব্রডব্যান্ড রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। অধিকাংশ প্রচলিত ফোন নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছে ব্রডব্যান্ড জিনি।

তবে ডিজিটাল ভয়েস ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাজনিত বিষয় রয়েছে। প্রচলিত ল্যান্ডফোনের মতো নতুন প্রযুক্তি বিদ্যুৎ ছাড়াই কাজ করতে পারবে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্রডব্যান্ড সংযোগ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ল্যান্ডফোনও অচল হয়ে পড়বে। এতে জরুরি প্রয়োজনে ফোন করার সুযোগ হারাতে পারেন গ্রাহকরা।

এ কারণে বাড়িতে সচল মোবাইল ফোন বিকল্প হিসেবে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের মোবাইল ফোন নেই অথবা যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, তাদের নিজ নিজ টেলিফোন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফোন সচল রাখার জন্য ব্যাটারি ব্যাকআপের ব্যবস্থাও পাওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া বাড়ির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অ্যালার্ম, জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ যন্ত্র পুরোনো টেলিফোন লাইনের ওপর নির্ভরশীল কি না, তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। এসব যন্ত্র নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা হালনাগাদ করতে হতে পারে।

অন্যদিকে, ল্যান্ডফোন ব্যবস্থার এই পরিবর্তনের কারণে ব্রডব্যান্ড বিল কমানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। যেসব গ্রাহককে পুরোনো সংযোগ থেকে পূর্ণাঙ্গ ফাইবার ব্রডব্যান্ডে স্থানান্তর করা হবে, তাদের বিদ্যমান চুক্তির শর্ত বহাল রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

ব্রডব্যান্ড জিনির অ্যালেক্স টফটসের দাবি, গ্রাহকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ তুলনা করে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫২ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসলে দ্বি-শিশু বেনিফিট ক্যাপ বাতিল করা উচিতঃ আর্চবিশপ

গণমাধ্যম ও বিনোদন জগতে অভিবাসনপন্থী বয়ান ছড়াতে কোটি কোটি পাউন্ড ব্যয়ঃ দাবি টেলিগ্রাফের

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন মামলায় এখনও মিলছে লিগ্যাল এইড